খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন দুটি ইট সোলিং নির্মাণ কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাজের মান ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে রায়পুর খেয়াঘাট থেকে ভগবতীপুর মাঙ্গা নদীর অভিমুখে ১,৫৭৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের ইট সোলিং নির্মাণ কাজ পান ঠিকাদার মোঃ ফজলুর রহমান। অপরদিকে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রায়পুর খেয়াঘাট ওয়াপদা থেকে ভগবতীপুর গেট অভিমুখে ১,৩১৩ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭ ফুট প্রস্থের আরেকটি কাজ পায় মেসার্স সুমি এন্টারপ্রাইজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে রাস্তা সমতল করে বেড প্রস্তুত না করেই অনেক স্থানে সরাসরি বালির ওপর ইট বসানো হয়েছে। ফলে নিচে ফাঁকা জায়গা থেকে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে বালি সরে গেলে ইট উঁচু-নিচু হয়ে রাস্তা দ্রুত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
সরকারি স্টিমেট অনুযায়ী ইটের নিচে ৪ ইঞ্চি এবং উপরে ১ ইঞ্চি বালি দেওয়ার কথা থাকলেও বহু স্থানে মাত্র ১.৫ থেকে ২.৫ ইঞ্চি বালি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও ইটের ওপর নামমাত্র বালি ছিটিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে, আবার কিছু স্থানে বালি ছাড়াই কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। এছাড়া হ্যাজিংয়ের বাইরে ১ ফুট টাইট মাটি দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও সেখানে আলগা ও হালকা মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক জায়গায় আদুলী ইট ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে, যা রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
ভগবতীপুর এলাকার বাসিন্দা অমল মণ্ডল বলেন, ‘রাস্তা সমান না করেই ইট বসানো হয়েছে। বৃষ্টি হলেই বালি সরে গিয়ে ইট দেবে যাবে। দুই বছরও টিকবে না।’ রায়পুর এলাকার বাহাউদ্দীন সরদার বলেন, ‘স্টিমেট অনুযায়ী কাজ হলে রাস্তা অনেক টেকসই হতো। এত কম বালি দিয়ে কাজ করতে কোথাও দেখিনি। এখানে স্পষ্ট অনিয়ম হয়েছে।’
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাগজে-কলমে দুটি প্রকল্প দুই প্রতিষ্ঠানের নামে থাকলেও বাস্তবে চুক্তিভিত্তিকভাবে উভয় কাজই পরিচালনা করছেন ঠিকাদার মোঃ ফজলুর রহমান। ফলে দুই প্রকল্পেই একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত ঠিকাদার মোঃ ফজলুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।’
বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী গৌতম কুমার মণ্ডল বলেন, বিষয়টি তার অফিসের সার্ভেয়ার রাগিব হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। সার্ভেয়ার রাগিব হাসান বলেন, কাজে কিছু অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে এবং ঠিকাদারকে সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খুলনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, বিষয়টি বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দেখা হবে। সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কে এমন অনিয়মের অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সানা/আপ্র/২৮/২/২০২৬