সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার সংক্রান্ত ১১টি মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এসব মামলার অর্থ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ চলছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে।
তিনি আরো জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চায়না রয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্মতি পাওয়া গেছে, বাকি দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত আন্তসংস্থা টাস্কফোর্স ১১টি অগ্রাধিকার মামলা চিহ্নিত করেছে। এসব মামলায় অর্থ পাচারকারীদের তালিকায় রয়েছে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, এইচ বি এম ইকবাল ও তাঁর পরিবার এবং সামিট গ্রুপ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং দমনের অংশ হিসেবে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ শনাক্ত ও ফেরত আনার কাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তির মাধ্যমে তথ্য বিনিময় ও সম্পদ উদ্ধারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরো জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে বলে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যে উঠে এসেছে, যা গড়ে বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার। একই অধিবেশনে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে এক হাজার জনকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং ২০ লাখ জনকে ফ্রিল্যান্সার কার্ড প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে সাড়ে সাত হাজার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
সানা/আপ্র/২২/৪/২০২৬