অমর একুশের গ্রন্থমেলা ২০২৬-এ প্রকাশিত হলো জগদীশ সানার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘সোনালি অন্ধকার’। ত্রিশ বছর আগে ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এই কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আমি কান পেতে রই’। দীর্ঘ সময়ের বিরতিতে কবি লিখে গেছেন ঠিকই কিন্তু প্রকাশের চেষ্টা না করে বরং কাব্যোৎকর্ষ সাধনে সময় দিয়েছেন। অবশ্য এর মধ্যেও দুইটি উপন্যাসসহ ৮টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তার। ‘সোনালি অন্ধকার’ কবির প্রকাশিত নবম গ্রন্থ। ৭ মার্চ থেকে বাংলা একাডেমির এবারের অমর একুশের গ্রন্থমেলার দুটি স্টলে পাওয়া যাচ্ছে বইটি। অমরাবতি (স্টল নং ২১২-২১৩ এবং বাংলাদশ রাইটার্স ইউনিয়ন (স্টল নং ৫৫১-৫৫২)। আকর্ষণীয় প্রচ্ছদে পাঁচ ফর্মার বইটির মূল্য ২৪০ টাকা। মেলা থেকে কিনলে স্টল নির্ধারিত কমিশন পাওয়া যাচ্ছে।
‘সোনালি অন্ধকার’ বইয়ের প্রকাশক ও অমরাবতি প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার মতিন বাঙালি বললেন, কবিতা এমনই একটি সাহিত্য ও একই সাথে শিল্পকর্ম, একবার গ্রন্থে ছাপা হয়ে পাঠকের হাতে উঠলে তার কোনো লাইন আর কোনদিন পাল্টানোর সুযোগ থাকে না। কবিকে তাই অনেক ভেবেচিন্তে, বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিটি চরণ চূড়ান্ত করতে হয়। এর জন্য চাই নির্ঝঞ্ঝাট সময়। সেদিক থেকে এই কবি সঠিক একটি কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছেন-এটা বলাই যায়।
একটি ইংরেজি কবিতাসহ মোট ৬৬টি কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘সোনালি অন্ধকার’। গ্রন্থের নামেই রয়েছে একটি কবিতা। ছন্দ, মাত্রা, আবেগ, উপমার মতো শক্তিশালী ও প্রভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন ‘বার্তা ও ‘রহস্যময়তা’ও কবিতার বড় সম্পদ। কারণ সেগুলো আকৃষ্ট করে পাঠককে। ‘সোনালি অন্ধকার’ নামটির মধ্যে যেমন রয়েছে প্রগাঢ় রহস্যময়তা, বইয়ের সব কবিতাগুলোতেই যেন লেপ্টে আছে এই রহস্যময়তার চমক। প্রতিটি কবিতা জোরালোভাবে সরবরাহ করেছে বৈচিত্র্যময় বার্তা। বার্তাময় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে নানা উপাদানে। আছে জীবন-দর্শন, যুদ্ধ, আধ্যাত্মিকতা, প্রকৃতিপ্রেম, সমসাময়িক, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অন্যায়-অনিয়ম ইত্যাদি বিষয়বৈচিত্র্য।
প্রকাশক মতিন বাঙালি জানালেন বলেন, প্রকাশের স্টাইলে কবি আধুনিক ও উত্তর আধুনিক কাব্যধারার মধ্যে একটি সুষ্ঠু সমন্বয় করার চেষ্টা করেছেন। উদ্দেশ্য বর্তমানের টেকনোলজির চুম্বক যেন আমাদের কবিতাকে পাঠকদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে না দিতে পারে। উত্তর আধুনিকতা যাতে কোনোভাবেই কবিতাকে ‘দুর্বোধ্য ও ‘নিরস’ করে না দিতে পারে সেদিকে কবির রয়েছে সজাগ দৃষ্টি। তিনি এই কঠিন কাজে সফলও হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে তাই কবিতার ছন্দে এসেছে মিল, অমিল ও অন্তঃমিলের চমৎকার নিরীক্ষিত ব্যবহার। সেগুলো অনেক কবিতায় আলাদাভাবে; অনেক কবিতায় এসেছে পাশাপাশি। এর মধ্যদিয়ে কবিতায় একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় নতুন ধারা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশ স্পষ্টভাবেই উঁকি দিয়েছে এ গ্রন্থে।
সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা আর ভাব-ব্যঞ্জনা এই গ্রন্থের সব কবিতায় সপ্রতিভ। কোনো কোনো কবিতা কবিতা হলেও সঙ্গীতের ভঙ্গিতে পাঠককে বিমোহিত করবে তাতে সন্দেহ নেই। সুর করে গান হিসেবেও পরিবেশন করার অবস্থায় রয়েছে অনেকগুলো কবিতা। প্রতিটি কবিতা পড়ার সময় পাঠক স্বাতন্ত্রের স্বাদ অনুভব করতে পারবেন বেশ ভালোভাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অন্তত ২০টি কবিতা আবৃত্তিযোগ্য হয়ে উঠেছে; বিশেষ করে ‘সোনালি অন্ধকার’ ও ‘বিরহের গান’ এ দুটি কবিতার প্রতিটি লাইন আবৃত্তিযোগ্য। তাই বাচিক শিল্পীরা এগুলোকে তাদের নতুন কাব্যসম্পদ হিসেবে দেখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রকাশক।
গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে রয়েছে পরিচয়, বিরহের গান, নস্টালজিয়া, শিশুর ভ্রমণ কাহিনী, বেচাবেচি, মরণের আগে, সুখসূত্র, কালোরাতের কবিতা, সোনালি অন্ধকার, দয়ালের গরু, শেষ পাখী, উন্নয়ন, নাগরদোলা তত্ত ও চোর, ভাগাভাগি, কবিতার জন্মকথা, অচিনযাত্রা, খেলাঘর, পুতুলকথা, নীলকোট, শিল্পীর মা, শ্রেষ্ঠশব্দ, যুদ্ধবাজের সমাধিলিপি, ঝরাচাঁদ, ফুলের কান্না, এনাটোমি, সুখপাখীর দুঃখ ও শেষ প্রার্থনা।
একুশের গ্রন্থমেলা ২০২৬ এ প্রকাশিত কবি জগদীশ সানার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘সোনালি অন্ধকার’-এর বহুল পাঠকপ্রিয়তা কামনা করেছেন প্রকাশক মতিন বাঙালি। আর কবি আশা রেখে বলেছেন, পাঠক কৌতূহলবশত গ্রন্থখানি হাতে করে দু’চারটা কবিতা পড়া শুরু করলে পড়ার ইচ্ছে জাগবেই।
‘সানা/আপ্র/ ১৩/৩/২০২৬