গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

মেনু

সংস্কৃতি চর্চা না থাকলে জাতি ইতিহাস ভুলে যাবে

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৫৪ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৪:২৪ এএম ২০২৬
সংস্কৃতি চর্চা না থাকলে জাতি ইতিহাস ভুলে যাবে
ছবি

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী =ছবি সংগৃহীত বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শিল্পকলার অনুষ্ঠানে রিজভী

বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক চর্চা অব্যাহত না থাকলে জাতি ইতিহাস ও শেকড় হারিয়ে ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, “আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য ১৬-১৭ বছর লড়াই করেছি, সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে। শুদ্ধ ঈশ্বরপ্রেম, মানবিক প্রেম, আধ্যাত্মিকতার ভাবনা ও লোকজ সাহিত্যের ধারাবাহিক অনুশীলন না থাকলে আমরা আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ভুলে যাবো।”

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশের অন্যতম নিজস্ব উৎসব এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। আগে এটি মূলত গ্রামীণ উৎসব হিসেবে পালিত হলেও বর্তমানে শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও এর বিস্তৃতি ঘটছে। একসময় হালখাতার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতেন এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী জীবনযাপন করতো। কিন্তু বর্তমানে নতুন প্রজন্ম বাংলা সাল ও পঞ্জিকার সঙ্গে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।”

রিজভী বলেন, “অনেক ছেলে-মেয়েই বলতে পারবে না বাংলা সাল কত। ইংরেজি স্কুলে বাংলা পঞ্জিকা শেখানো হয় কিনা— সেটিও প্রশ্নের বিষয়। এভাবে ভুলতে ভুলতে আমরা অনেক দিক থেকে হারিয়ে যাব।”

সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার উদাহরণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো নিজেদের মৌলিক বর্ণমালা হারিয়ে রোমান লিপি ব্যবহার করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা সংস্কৃতির বড় দুর্লক্ষণ। আমরা বহু প্রতিকূলতার পরও নিজেদের লিপি ধরে রাখতে পেরেছি। দেশের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধর্মবিরোধী হিসেবে দেখার প্রবণতা ঠিক নয়। ইসলামী ঐতিহ্য ও লোকজ ধারা মিলেই এই অঞ্চলের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ইউসুফ-জুলেখা, লাইলি-মজনু, রামায়ণভিত্তিক কাহিনী, গম্ভীরা, কবিগান, জারি-সারি, যাত্রাপালা— সব মিলিয়ে এই দেশের অভিন্ন সংস্কৃতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আউল-বাউল আমাদের সংস্কৃতির অংশ। যদি উগ্রবাদ দিয়ে এটাকে আক্রমণ করা হয়, তাহলে আমাদের মূল সংস্কৃতির চর্চা ধ্বংস হবে। আজকে কেন মাজারের পীরকে হত্যা করা হচ্ছে, কেন বাউলদের ওপর আঘাত করা হচ্ছে— এই আঘাত আমাদের সংস্কৃতির মর্মমূলে আঘাত।”

তিনি বলেন, “দেশের মূল সংস্কৃতির চর্চা ধরে রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে এটিকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এতে যেন কোনও ধরনের অশ্লীলতা প্রবেশ না করে।”

বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব বলেন, “যাত্রাপালা, পালাগানসহ বিভিন্ন পরিবেশনশিল্প একসময় মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।” বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বাধিকারের চেতনা এসব শিল্পমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 
সানা/আপ্র/১৭/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

দেশমাতৃকার শৃঙ্খলমুক্তিতে কাজী নজরুল হয়েছেন মহাবিদ্রোহী
২৮ আগস্ট ২০২৬

দেশমাতৃকার শৃঙ্খলমুক্তিতে কাজী নজরুল হয়েছেন মহাবিদ্রোহী

৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি===

রোমান্টিক কবিতা
২৮ আগস্ট ২০২৬

রোমান্টিক কবিতা

ভালোবাসার ভাষা কেবল শব্দের নয়, অনুভূতির গভীরতম প্রসববেদনায় জন্ম নেওয়া চিরন্তন এক সুর। এটি হৃদয়ের তার...

পঞ্চাশ বছর পরও অমর নজরুল, আজও জাগানিয়া তাঁর বাণী
২৭ আগস্ট ২০২৬

পঞ্চাশ বছর পরও অমর নজরুল, আজও জাগানিয়া তাঁর বাণী

জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, শ্রদ্ধায় স্মরণ

শামসুর রাহমানের কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা
২২ আগস্ট ২০২৬

শামসুর রাহমানের কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা

আবু আফজাল সালেহ ===  শামসুর রাহমান (২৩ অক্টোবর ১৯২৯-১৭ আগস্ট ২০০৬) বাংলাদেশের জনপ্রিয়...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই