গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

মেনু

নিবন্ধ===

আহমদ ছফার উপন্যাসে ব্যবহৃত প্রবন্ধের উপাদান যুক্তি ও প্রজ্ঞা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫৯ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২২:৩২ এএম ২০২৬
আহমদ ছফার উপন্যাসে ব্যবহৃত প্রবন্ধের উপাদান যুক্তি ও প্রজ্ঞা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

যারা আমাদের সত্যিকার পথ নির্মাণ করেছেন, তাদের আমরা কখনো কখনো মূল্যায়ন করতে ভুল করেছি; তাদের আলো নিয়ে প্রদীপ জ্বালাতে পারিনি। আমাদের পঞ্চাশ, ষাট বা সত্তরের দশকে যেসব মহান লেখক আমাদের পথ দেখিয়েছিলেন; উপন্যাসকে জীবন, সময়, সমাজ, সভ্যতা, মানবতা ও বুদ্ধি-প্রজ্ঞার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন- তাদের মধ্যে নিশ্চয় আহমদ ছফা অন্যতম। তিনি অনেকগুলো শাখায় লিখেছেন। তবে তাকে প্রাবন্ধিক হিসেবে অনেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। কবি বা অনুবাদক হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত। কথাসাহিত্য তাকে বিশিষ্টতা দিয়েছে। তিনি কখনো প্রচল ছকে উপন্যাস লেখেননি। তার মেধা, মনন, যুক্তি ও প্রজ্ঞা- যা তার প্রবন্ধের অন্যতম শক্তি; ওই উপাদান উপন্যাসে ব্যবহার করেছেন। স্বাধীনতা ও তৎপরবর্তী বাংলাদেশের পরিবর্তন তিনি তীক্ষèভাবে পর্যবেক্ষণ এবং উপলব্ধি করেছিলেন। এ বিষয় নিয়েই এবারের সাহিত্য পাতার প্রধান রচনা

উপন্যাস যেভাবে সাহিত্যের একটি শক্তিশালী শাখা হিসেবে বিচিত্রভাবে এগিয়েছে, সে হিসেবে আমাদের উপন্যাস খুব প্রসারিত নয়। তবে সার্বিকভাবে আমাদের দেশকাল সমাজ ইতিহাস ও ব্যক্তিমানুষের নানা টানাপড়েন নিয়ে আমরা যে রচনা পেয়েছি তার এক ধরনের মূল্য রয়েছে। অনেক সস্তা হালকা জনপ্রিয় উপন্যাসের বাইরে উপন্যাসের মূল চরিত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এমন উপন্যাসও আমাদের রয়েছে। তবে সংখ্যায় তা খুবই সামান্য। আমরা নেতিবাচকতার দিকে খুব বেশি ঝুঁকে পড়তে চাই না, তবে স্বাধীনতার প্রায় পাঁচ দশক পরে আমরা অবশ্যই গুণপনার দিকে নজর দিতে চাইব। আমাদের সমৃদ্ধ ভাষাকে ব্যবহার করে আমাদের জাতীয় জীবনের নানা উত্থান পতন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, আমাদের জনপদের সামগ্রিক জীবনাচরণ ও সামূহিক পরিবর্তনশীল জীবনধারার তাৎপর্য নিয়ে মানসম্পন্ন উপন্যাস রচনার সময় বোধহয় এসে গেছে।

আহমদ ছফাকে শক্তিমান ঔপন্যাসিক বলতে গিয়ে কুণ্ঠাবোধ করতে হয় না। তার নিজস্ব চিন্তাচেতনা, পঠনপাঠন ও সামাজিক পর্যবেক্ষণ তার উপন্যাসকে স্বতন্ত্র করেছে। তিনি বাংলা ভাষায় ইউরোপীয় উপন্যাস লিখতে চাননি। ঘটনার বাড়াবাড়ি ও দেখা যায় না সেখানে। আহমদ ছফার লেখক সত্তার সাথে তার সাধারণ জীবনযাপনের পার্থক্য নেই বলা চলে। তিনি নিজেকে মুসলমান বাঙালি ভাবতে ভালোবাসতেন। কৃষক পরিবারের সন্তান হয়ে তার মধ্যে মহৎ মানবের গুণাবলি লক্ষ্য করা যায়। বিস্তর পঠন-পাঠনই তাকে লেখক করে তুলেছে সেটা বলা বোধ হয় ঠিক হবে না বরং বলা ভালো দেশের প্রতি, সাধারণ মানুষের প্রতি তার যে ভালোবাসা এবং দায়বোধ তা থেকেই তিনি লেখক হয়ে উঠেছেন। একজন লেখক যত প্রকার ফর্মেই লিখুন না কেন তার মূল মানসচেতনার জায়গা স্থির থাকে, স্থির থাকে তার বোধের বিন্যাস ও মানবিক এষণা। যে নিরাভরণ সহজ সরল জীবনযাপন তিনি করতেন তা থেকেই তার ব্যক্তিত্বের আলো চেনা যায়। স্বাধীনতার মূল চেতনাকে তিনি খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তার উপন্যাসসত্তা বিষয়ে কিছু কথা বলার সময়ে আমরা সলিমুল্লাহ খানের শরণাপন্ন হতে চাই সংগত কারণেই। তিনি তাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন বলে আমার বিশ্বাস। তার একটি মন্তব্য পড়ে নেয়া যাক- “নিজের জাতিকে এমন গরিমার সহিত ভালোবাসেন আহমদ ছফার তেমন সমান বা দ্বিতীয় কোনো লেখক আজও আমার এই অল্প জীবনের সজ্ঞার মধ্যে পড়ে নাই। তার সকল লেখার গোড়ায় ভালোবাসা। এই ভালোবাসার জোরেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের সশস্ত্র-সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধে শরিক হয়েছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন, স্বাধীনতা বাংলাদেশের হাজার বছরের পুরনো সমাজে নতুন জীবন গড়ার সুযোগ নিয়ে আসবে। সে আশা পূরণ হয় নাই তার। বাংলাদেশের সমাজ তবু থেমে থাকে নাই। আহমদ ছফার প্রায় সকল কাহিনি এই ভালোবাসার, এই নিরাশা আর কষাঘাতের সাক্ষী।”

আহমদ ছফার উপন্যাসের মধ্যে ‘পুষ্প বৃক্ষ ও বিহঙ্গ পুরাণ’ একটি ছোট কলেবরের কম আলোচিত রচনা। তবে তার অন্য উপন্যাস নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে এই উপন্যাস নিয়েও সেরকম আলোচনা হওয়া খুব জরুরি। আপাতভাবে মনে হতে পারে ফুল বৃক্ষ পাখি নিয়ে তিনি রসিয়ে রসিয়ে দুটো গল্প এখানে উপস্থাপন করেছেন। এটা ঠিক যে ফুল বৃক্ষ ও পাখি নিয়ে দুটো আখ্যানের মধ্যে বেশ সাযুজ্য থাকলেও একটি উপন্যাসের জন্য এরকম দুটো প্রসঙ্গ একই সাথে রাখার তেমন উপন্যাসোচিত যুক্তি নেই। অন্তত উপন্যাসের তাত্ত্বিক দিয়ে এটা সমর্থনযোগ্য নয়। আবার আমরা যদি ধরেই নিই যে তিনি প্রচল ধারার উপন্যাসের ফর্ম মানেন না তাহলে বলতে হবে এটি বিশেষ ধরনের একটি উপন্যাস। আমার কেন জানি মনে হয়, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সামূহিক মানবিক বিপর্যয়ের অবর্ণনীয় ছবি আহমদ ছফাকে অসম্ভব উত্তেজিত করে তুলেছিল। শিক্ষিত-অশিক্ষিত সব ধরনের মানুষের যে অধঃপতন সেখান থেকে মুক্তি পাবার জন্য ফুল বৃক্ষ ও পাখিফুলের প্রতি তিনি ঝুঁকে পড়েছেন বা এদের আশ্রয় করে তার প্রতিবাদ জারি রাখতে পেরেছেন।

পুষ্প বৃক্ষ ও পাখিকে তিনি যে রচনা আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন তাকে হয়ত সমালোচকের সঠিক অর্থে উপন্যাস বলবেন না। তাতে অবশ্য খুব বেশি কিছু আসে যায় না। এটিতে ছফা পুষ্প বৃক্ষ ও বিহঙ্গ নিয়ে কোনো বৃত্তান্ত লেখেননি বরং আপাতভাবে মনে হয় বা তার জীবনী থেকে যতটুকু জানা যায় এটি তার বাস্তব অভিজ্ঞতার ফসল। তিনি যেভাবে বলেছেন, যে যে নাম ব্যবহার করেছেন প্রায় ক্ষেত্রে তা বাস্তব। এ থেকে মনে হতে পারে বাস্তবতা ও শিল্পের মধ্যে যে ব্যবধান লেখকেরা মানেন ছফা তা মানেনি। তিনি দুএকটি ছোটোখাটো পরিবর্তন (স্মৃতি বিস্মরণজনিত কারণেও হতে পারে) করেছেন। তবে এই উপন্যাসের প্রধান শক্তি হলো ঔপন্যাসিকের নিজস্ব মনোপ্রতিন্যাস। আপাতভাবে খ্যাপাটে রাগী আহমদ ছফা এখানে প্রকৃতি কীটপতঙ্গ বা বিহঙ্গের প্রতি যে অনুরাগ দেখিয়েছেন বা তাদের মধ্য দিয়ে মানবজীবনের গভীর সত্যকে উপলব্ধি করেছেন; এই উপলব্ধিজাত অনুভবকে তার দার্শনিক সজ্ঞা বলা যেতে পারে, বলা যেতে পারে তিনি আবিষ্কার করেছেন এক গভীর অনুধ্যানের জগৎ যা মানবজীবনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে ভাবা যায়। এই চেতনা খুব যে নতুন তা হয়তো বলা যাবে না। কারণ আমাদের ঔপনিষদিক চিন্তাবিভূতির সাথে এর হুবহু মিল পাওয়া যাবে। গাছের প্রাণ বা পাখিদের সাথে মানবের সংলাপ বা তাদের আঁতের কথা বের করে আনার যে কাজ আহমদ ছফা করেছেন তা আরো একটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। ধারণা করা বোধ করি অন্যায় হবে না তিনি মানবপ্রজাতির অবিরাম অমানবিক ও অসামাজিক কাজের প্রতিবাদ করতেই হয়তো প্রকৃতির এই মুক মুখে ভাষা খুঁজে পেয়েছিলেন। অবশ্য অন্য একটি সত্য যে ফুল বৃক্ষ পাখিদের সংস্পর্শে তিনি এসেছিলেন স্বাভাবিকভাবে বা ঘটনাক্রমে এবং তাদের মধ্যে এই সব সত্য আবিষ্কার করার পরে তা বিন্যস্ত করার চেষ্টা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় তিনি সত্যি সত্যি সবজি চাষ করেছিলেন। বীজ সংগ্রহ মাটি তৈরি সার সংগ্রহ এবং ধীরে ধীরে নিবিড় যত্নে তিনি যেভাবে ফুল বা সবজি তৈরি করেছিলেন তার যাবতীয় খুঁটিনাটি তিনি বর্ণনা করেছেন। যাদের কাছে এই ফুল ফোটানো বা গাছ বড় হয়ে ওঠার ব্যাপার কোনো আনন্দময় ঘটনা মনে হয় না তাদের কাছে বিষয়টি বাহুল্য বা ক্লিশে মনে হতে পারে। তবে মানবচৈতন্যে আনন্দযোগের নানা রকম হেতু থাকে; আমাদের আকাঙ্ক্ষার যে বৈচিত্র্যপূণর্ বাতাবরণ আছে তার প্রমাণ এই জাতীয় আখ্যান। বড় দাগের বা স্থূল বিষয়ের বাইরে আমাদের সূক্ষ্ম বোধ বা বিষয় নিয়ে আখ্যান রচিত হতে পারে এবং তা মানুষকে পুলকিত করতে পারে সেটা এই রচনায় লক্ষ্য করা যাবে। এই বোধ শুদ্ধবোধ এবং নান্দনিক বোধ। এরই আশ্লেষে আমরা মানবজীবনের গভীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বুঝে উঠতে পারি।

আহমদ ছফার শরণাপন্ন হতে পারি আমরা। উপন্যাস থেকে একটু পড়ে নিতে পারি- “শাহানার একেবারে কোলের বাচ্চাটি, যার নাম রিয়াদ, সেই আবিষ্কার করল কার্নিশের পাশের একটি বেগুনগাছে পাঁচ সাতটি বেগুনি ধরনের ছোট ছোট ফুল এসেছে। ফুলগুলো পাতার অন্তরাল থেকে উঁকি দিচ্ছে। একেবারে অতর্কিতে এসে পড়েছে বলে একটুখানি লজ্জা এবং একটুখানি গর্বের আভাস ভাবেভঙ্গিতে প্রকাশ পাচ্ছে। এই এতটুকুন বাচ্চা ছোট ছোট চোখ দিয়ে দেখতে পেল কেমন করে, পাতার আড়ালে থাকা ফুলগুলো। ...আমার ক্ষেতের বেগুনগাছে ফুল ফুটেছে, ইচ্ছে হলো এই অপূর্ব সংবাদটি জনে জনে জানাই। হোস্টেলের করিডোরে অনেকক্ষণ হাঁটলাম। যে সমস্ত মানুষ আসা-যাওয়া করছে তাদের চোখের দিকে তাকাই, মুখের দিকে তাকাই। অবশেষে হতাশ হয়ে মেনে নিতে হলো, এই সমস্ত ব্যস্তবাগীশ মানুষের কাউকেই আমার গাছে ফুল ফোটার সংবাদটি প্রকাশ করা যায় না। কিন্তু এই অসহ্য আনন্দ তো আমি মনের মধ্যে ধারণ করতে পারছি নে।”

পাখি নিয়ে আহমদ ছফার যে পর্যবেক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণজাত অভীক্ষা তাকে নিঃসন্দেহে একেকটি থিসিস হিসেবে বিবেচনা করা যায়। দুই পর্বের প্রসঙ্গের মধ্যে আপাতভাবে পার্থক্য থাকলেও ছফা সেটা থাকতে দেননি তার রচনার শক্তি দিয়ে। যাইহোক, পাখি নিয়ে এই কাণ্ডকারখানা নতুন নয়। সব কবি ও কাহিনিকার এ নিয়ে নানা রচনা তৈরি করেছেন। ফরিদউদ্দীন আত্তার ‘কনফারেন্স অব দি বার্ড’ নামে সেই মধ্যযুগে একটি রূপক কাব্য লিখেছিলেন। রূপকথায় তো পাখি নিয়ে তেলেসমাতি রয়েছে শত শত। পাখি নিয়ে ছফা যা করতে পেরেছেন তা কম কিছু নয়।  পাখিপুত্র হিসেবে তিনি একটি পাখিকে গ্রহণ করেছেন। যে হারিয়ে গিয়েছিল, আবার ফিরে আসে। কাক নিয়ে তার যে সব কথাবার্তা তা কতদূর অনুমোদনযোগ্য বা বিশ্বাস্য তা নিয়ে নতুন ধরনের ব্যাখ্যা দাবি করে। বুলবুলি, ঘুঘু ও শালিক নানাজাতের পাখির চরিত্র তিনি নির্মাণ করেছেন। পাখি সমাজের নানা স্বভাব সংস্কৃতি তিনি আবিষ্কার করেছেন, এমনকি কখনো কখনো ভাষা আবিষ্কারও করে ফেলেছেন।

শেষের দিকে তিনি বলেছেন, মনুষ্যজাতির হিংস্রতা দেখে তিনি বৃক্ষ পাখি সমাজের আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে ও বিভেদ ও হানাহানি আবিষ্কার করলেন। তিনি মানুষ বলেই তাকে আবার মানুষের জগতে ফিরে আসতে হবে। তবে তার এই অভিজ্ঞতা অতুলনীয়। অন্য কোনোভাবে কোথাও থেকে এটা তিনি পেতেন না। তার বয়ান থেকে শোনা যাক; এই পুষ্প এই বৃক্ষ, এই তরুলতা, এই বিহঙ্গ আমার জীবন এমন কানায় কানায় ভরিয়ে তুলেছে, আমার মধ্যে কোনো একাকিত্ব, কোনো বিচ্ছিন্নতা আমি অনুভব করতে পারিনি। সকলে আমার মধ্যে আছে, আমি সকলের মধ্যে রয়েছি। আমি আমার পাখি পুত্রটির কাছে বিশেষভাবে ঋণী। আমার পাখিপুত্রটি আমাকে যা শিখিয়েছে কোনো মহৎ গ্রন্থ, কোনো তত্ত্বকথা, কোনো গুরুবাণী আমাকে সে শিক্ষা দিতে পারেনি। একমাত্র অন্যকে মুক্ত করেই মানুষ নিজের মুক্তি অর্জন করতে পারে। আমার পাখিপুত্র মুক্ত, আমি মুক্ত, আমাদের সম্পর্ক থেকে প্রত্যহ অমৃত উৎপাদন হয়। এই আকাশের জীবনের সঙ্গে আমার জীবনের যে সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেটা কি সমুদ্রে অবগাহন নয়?

উপন্যাস শেষ পর্যন্ত একটি দর্শন দ্বারা শেষ হয়েছে। সেই দর্শনের যুক্তি কতটুকু পোক্ত তা নিয়ে তর্ক হতে পারে। তবে এটি ঠিক যে জীবন তিনি এই সব উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মধ্যে যাপন করেছে সেই জীবনকে তিনি ভালোভাবে চেনেন বা জানেন; সেই জীবনের গভীর উপলব্ধিকে তিনি মূল্য দিয়েছেন। এই বোধ বা উপলব্ধি তার ব্যক্তিগত হলেও তা সমানভাবে আমাদের প্রভাবিত করে বা আক্রান্ত করে। আমাদের ভাবতে হবে যে এই বোধ মৌলিক। মানবজীবনের অনেক সত্য থাকে, তাকে আবিষ্কার করতে হয়। এই আবিষ্কারের চোখ সবার থাকে না। আমাদের চারপাশে কত গুরুত্বহীন জিনিসের মধ্যে মানবজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। এই উপন্যাস ব্যতিক্রমী এই অর্থে এটি মানবজীবনের গভীর একটি সত্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। উপন্যাসের কাঠামোগত দুর্বলতা লক্ষ্য করা গেলেও নতুনত্বের জন্য, নতুন বিষয়বস্তুর জন্য উপন্যাসটি মহৎ হয়ে উঠেছে।

কেএমএএ/আপ্র/০৩.০৭.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

আধুনিক মালয়েশিয়াকে জানতে চার বই
০৩ জুলাই ২০২৬

আধুনিক মালয়েশিয়াকে জানতে চার বই

বইপত্র===

কবিতা===
০৩ জুলাই ২০২৬

কবিতা===

ঋষিণ দস্তিদারেন গুচ্ছকবিতাটাউনশিপগভীর আদিবাসী ছায়াবনসবুজ ছিঁড়ে উপড়ে ফেলেছেঅনেক অভিবাসী মুঠি।পাহাড়ের...

আন্তর্জাতিক উৎসবে সেরা সিনেমাটোগ্রাফি অর্জন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপ্তকের
২৪ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক উৎসবে সেরা সিনেমাটোগ্রাফি অর্জন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপ্তকের

আবু তাহের, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: চীনের সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বেস্ট সিনেমাটোগ্...

গান-কবিতায় শুরু ছায়ানটের নজরুল উৎসব
০৬ জুন ২০২৬

গান-কবিতায় শুরু ছায়ানটের নজরুল উৎসব

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ‘নজরুল-উৎসব ১৪৩৩’-এর সূচনা হয়েছে ছায়ান...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই