গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মেনু

মহকুমার মহাকাব্য

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৫১ পিএম, ০৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৪০ এএম ২০২৬
মহকুমার মহাকাব্য
ছবি

ছবি: আজকের প্রত্যাশা

জাহাঙ্গীর আলম সরকার

তিস্তার তটভূমে জাগ্রত বাগডোগরা-
শতবর্ষের ধ্বনি বহনকারী এক অমøান প্রহরী।
বটবৃক্ষের ছায়াতলে স্তব্ধ হয়ে আছে কাল,
ধূলি ও ঘামে মিশে রচিত মানুষের অমর বয়ান।

ধানের মাঠে ঘামের সাথে লুপ্ত কৃষকের নিঃশ্বাস।
নকশালপাড়া, রক্তমাটি-
নামেই খোদিত রক্তস্মৃতি,
আকাশের চোখে জমে আছে বিদ্রোহের অগ্নিজ্যোতি।

নীলকরদের নিষ্ঠুর শাসনে শিউলি-ছোঁয়া রাত্রি কেঁদেছে,
মাটির শিরায় শিরায় ক্ষুধা আর ক্রোধ যুগপৎ জেগেছে।
দূর সমুদ্রপথ বয়ে এলো রাজদণ্ডের ফরমান,
আইনের নামে শাসন,
শোষণের সুরে বিধান।

কর, নিলাম, জমিদারি-
মানুষ হারাল তার ভূমি,
কৃষকের অন্তর্লীন শ্বাস রুদ্ধ হয়নি।
তখনই জাগল প্রতিরোধ-
কৃষকের বুকে উঠল শপথের আগুন-
‘আইসো বাহে কুন্ঠে সোগায়
এই ঝিনঝির ভাঙুমই হামরা।’

উঠো দাদা-ভাই,
দাও ধ্বনি খোলার!

শুটিবাড়ি থেকে ডিমলা,
দিন-রাত্রিজুড়ে উঠল ধ্বনন।
গয়াবাড়ির বক্ষ চিরে উঠল সন্ন্যাসীর ত্যাগমন্ত্র,
গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়ল বিদ্রোহের মন্ত্রধ্বনি।

তিস্তার তীরে প্রতিধ্বনি তুলে বলল ইতিহাস-
‘মুক্তি ভিক্ষা নোহায়,
মুক্তি হামার অধিকার।’
তারপর এলো লৌহপথ-
রেলরেখা এঁকে দিল নতুন কালের মানচিত্র।

ডোমার, চিলাহাটি, দার্জিলিং-
দূরত্ব ভেঙে গাঁথল জনপদের নিয়তি ও চরিত্র।

আজও সেই লোহার শিরায় শিরায়
স্পন্দিত হয় এক মহকুমার প্রাণধ্বনি।
একদিন কবির পা পড়ল এই পথে-
রবীন্দ্রনাথ, সময়ের সাক্ষী।

ট্রেনের জানালায় ভেসে উঠল নীলফামারীর বিস্তীর্ণ রূপ,
মাঠ, গ্রাম আর নিঃশব্দ মানুষের অন্তর্লীন সুর।

হয়তো সেই যাত্রার ছায়া আজও
তার কলমের গোপন অলিতে বাস করে।
সেই পথে রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠে
নীলফামারী পেল চিরস্থায়ী ঠাঁই-

‘শ্রাদ্ধ’-এর পঙ্ক্তিতে ধরা দিল
জনজীবনের হাসি আর হাহাকার।

বাজার, মানুষ, নিত্যদিন-
ব্যঙ্গ আর বেদনায় গাঁথা ছবি,
ইতিহাস হলো কাব্য,
কাব্যে বাঁধা পড়ল নীলফামারীর ভূমি।

কালান্তরে ইতিহাস নাম বদলাল-
বাগডোগরা ছাড়িয়ে জন্ম নিল নীলফামারী।
শাখামাছার হাটে শিশুর হাসি
আর বৃদ্ধের দৃষ্টিতে প্রতিফলিত সংগ্রামের ছবি।

প্রশাসনের রদবদলে, ক্ষমতার পালাবদলে
রক্তে রক্তে খোদিত হলো আত্মপরিচয়ের অক্ষরধ্বনি।
কখনো দুর্ভিক্ষে শুষ্ক হলো অন্ন আর আশ্বাস,
কখনো বন্যার জলে ডুবল বসতি ও বিশ্বাস।

তবু একদিন দিগন্তে উঠল লাল সূর্য স্বাধীনতার,
জনপদের কপালে জ্বলল নতুন সকালের অঙ্গীকার।
এই ইতিহাস কোনো নির্জীব তারিখমালা নয়,
এ এক দীর্ঘশ্বাস- মাটির গভীর উচ্চারণ।

পথের ধূলি, মাঠের ঘ্রাণ, মানুষের নীরব প্রতিজ্ঞা
মিলেমিশে রচনা করেছে
সময়ের অবিনাশী আখ্যান।
এ এক মহকুমার কথা নয়-
এ এক জনপদের আত্মকথা।

বাগডোগরা থেকে নীলফামারী-
ইতিহাসের দীর্ঘ পথে রচিত
এক মহকুমার মহাকাব্য।

কেএমএএ/আপ্র/০৬.০২.২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

কবিতা: আমার ছাতা তোমার পরম নির্ভরতা
০৮ মে ২০২৬

কবিতা: আমার ছাতা তোমার পরম নির্ভরতা

তানজিদ শুভ্রআকাশের কালো মেঘ আজ ঝরে পড়ুক অঝোর ধারায়,আমি তো রয়েছি পাশে মায়ার নিবিড় এক ছায়ায়।চারপাশে ভি...

লোককথা: রাজকীয় পোশাক ও সিংহাসন ছেড়ে ফকিরি বেশ নেন গাজী
০৮ মে ২০২৬

লোককথা: রাজকীয় পোশাক ও সিংহাসন ছেড়ে ফকিরি বেশ নেন গাজী

১৫৩৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০০ বছর সুলতানরা এই স্বাধীন বাংলা শাসন করেছিলেন। ওই সময় ঝিনাইদহের বৈরাট নগরে...

স্মরণে রবীন্দ্রনাথ: কিশোর কবির বিশ্বজয়
০৮ মে ২০২৬

স্মরণে রবীন্দ্রনাথ: কিশোর কবির বিশ্বজয়

ড. মো. ফোরকান আলী    রবীন্দ্রনাথের জন্ম হয়েছিল কলকাতার এক পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবার...

স্মরণ: নভেরার কীটপতঙ্গের মায়াবী জগৎ
০৮ মে ২০২৬

স্মরণ: নভেরার কীটপতঙ্গের মায়াবী জগৎ

শিকোয়া নাজনীনশিল্পী নভেরা আহমেদ (২৯ মার্চ ১৯৩৯—৬ মে ২০১৫) তার ভাস্কর্যে নানা অচেনা প্রাণী-অবয়ব মূর্ত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই