আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার মোকাবিলায় পিঠে বহনযোগ্য লেজার অস্ত্র উন্মোচন করেছে চীন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর এই অস্ত্র মাত্র চার সেকেন্ডে একটি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম। এরই মধ্যে চীনের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে প্রযুক্তিটি মোতায়েন করা হয়েছে।
চীনের সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘হারবিন শিনগুয়াং অপটিক-ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি’ সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত একটি অস্ত্র প্রদর্শনীতে অস্ত্রটি প্রদর্শন করে। ‘লিজিয়ান’ নামে পরিচিত এই লেজার অস্ত্রটি সহজেই ব্যাগে ভরে একজনের পক্ষে বহন করা সম্ভব।
ড্রোনবিধ্বংসী লেজার প্রযুক্তিতে সাধারণত উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সরবরাহ ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হওয়ায় এসব অস্ত্র আকারে বড় হয় এবং সহজে বহন করা যায় না। নতুন এই প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্রটির ওজন প্রায় ২৫ কেজি এবং কার্যকর পাল্লা প্রায় ৫০০ মিটার। স্থায়ীভাবে স্থাপন করা লেজার ব্যবস্থার তুলনায় এর পাল্লা কম হলেও এটি মাত্র চার সেকেন্ডে ড্রোন পুড়িয়ে ফেলতে পারে। পরবর্তী আঘাত হানার আগে শীতল হতে সময় লাগে পাঁচ সেকেন্ডেরও কম।
লক্ষ্যবস্তু শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারকারী এই অস্ত্র দ্রুত মোতায়েন ও স্থানান্তর করা সম্ভব বলেও জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, এটি পরিচালনাও তুলনামূলক সহজ।
ড্রোন প্রতিরোধে প্রচলিত গোলাবারুদের তুলনায় লেজার প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। প্রতিটি আঘাতে কম খরচ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ ধরনের প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটির ওপর একাধিক অজ্ঞাত ড্রোন উড়তে দেখা যাওয়ার পর সেখানে ড্রোনবিধ্বংসী লেজার ব্যবস্থা মোতায়েনের আলোচনা শুরু হয়। অন্যদিকে, আগামী বছর চারটি যুদ্ধজাহাজে ‘ড্রাগনফায়ার’ লেজার অস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ড্রোন, লেজার ও ভূমিভিত্তিক রোবট প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ আধুনিক যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে।
সানা/আপ্র/২৮/৬/২০২৬