উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামসহ রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী তিন দিনে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসামে আগামী পাঁচ দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ৩০ জুন থেকে ২ জুলাইয়ের মধ্যে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সময়ে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং কিছু এলাকায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, বর্তমানে জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ছে। দুধকুমারের পানি কিছুটা কমলেও তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে উজান থেকে পানি আসতে থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।
তিনি বলেন, “ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়তে থাকলে অন্য নদীর পানি দ্রুত নামতে পারে না। এতে ব্যাকওয়াটার প্রভাব তৈরি হয়ে বন্যার ঝুঁকি বাড়ে। আগামী তিন দিনের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। নদীপাড়ের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।”
এদিকে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা সামগ্রী মজুত ও প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই উজানের ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো দ্রুত পানি বাড়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদি হলেও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থেকে যায়, যা কৃষি ও বসতবাড়ির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিন কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের নদীপাড়ের মানুষের জন্য সতর্কতা ও প্রস্তুতির সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সানা/আপ্র/২৮/৬/২০২৬