এবাদত হোসেন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারের ভয়ঙ্কর জুটিটা ভাঙার পর অস্ট্রেলিয়ানদের স্বস্তিতে থাকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা বিউ ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করে দেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ পেসার। যার ফলে ১৫২ রানেই সাজঘরে ফিরে যান অস্ট্রেলিয়ার ৬ষ্ঠ ব্যাটার।
এ রিপোর্ট লেখার সময় দ্বিতীয় সেশনে অস্ট্রেলিয়ার রান ৪১ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬২৯। ৫৫ রান নিয়ে ব্যাট করছেন স্টিভেন স্মিথ এবং ২ রান নিয়ে তার সঙ্গী প্যাট কামিন্স।
তানজিদ হাসান তামিম যদি স্টিভেন স্মিথের ক্যাচটা তালুবন্দী করতে পারতেন, তাহলে সত্যি সত্যি অস্ট্রেলিয়াকে অনেক বড় বিপদে ফেলে দিতে পারতো বাংলাদেশ। সেই স্মিথই এখন টেনে নিয়ে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়াকে। যদিও অ্যালেক্স ক্যারেকে নিয়ে যে ভয়ঙ্কর জুটিটা গড়েছিলেন তিনি, সেটা ভেঙে দেন এবাদত হোসেন। ফিরিয়ে দেন ক্যারেকে।
শুরুতে হাসান মাহমুদ, এরপর এবাদত হোসেন এবং সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের দুঃস্বপ্ন হয়ে হাজির হলেন আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ। এই তিন পেসার মারারা স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া প্রথম টেস্টের প্রথম সেশনেই তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ৪টি উইকেট।
২২তম ওভারের শেষ বলে অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ উইকেট পড়ার পরই লাঞ্চ বিরতির ঘোষণা দেন আম্পায়াররা। অর্থ্যাৎ অস্ট্রেলিয়ার মত দলের এবং তাদেরই মাঠে প্রথম সেশনে ৪ উইকেট নিয়ে স্পষ্টত এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এই দারুণ অনুভূতি নিয়েই লাঞ্চ বিরতিতে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
তবে লাঞ্চ বিরতি থেকে ফেরার পর ম্যাচটা নিজেদের দিকে টেনে নিতে শুরু করেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারে জুটি। তাদের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৫৫ রানের জুটি। ধীরে ধীরে তারা ম্যাচকে বের করে নিতে থাকে বাংলাদেশের বোলারদের হাত থেকে। অবশেষে দলীয় ১২৯ রানের মাথায় আঘাত হানেন এবাদত হোসেন। ৪৩ বলে ১৯ রান করা ক্যারেকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের ড্রপ ইন পিচে কেমন করবে বাংলাদেশ? টাইগার পেসাররা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং লাইনআপকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে কি না, তা নিয়ে ছিল নানা সন্দেহ-সংশয়। তারওপর প্রশ্ন ছিল, তিন নম্বর পেসার হিসেবে কাকে খেলানো হবে? খালেদ আহমেদ নাকি এবাদত হোসেনকে।
সব জ্বল্পনা-কল্পনা পেরিয়ে শুরু হয় ডারউইন টেস্ট। টস জেতেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এবং টস জিতেই নিলেন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত। পরিকল্পনা ছিল, বাংলাদেশের সামনে বিশাল একটি ইনিংস দাঁড় করিয়ে শুরুতেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া।
কিন্তু প্যাট কামিন্সের পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেন বাংলাদেশের দুই পেসার হাসান মাহমুদ এবং এবাদত হোসেন। ৬১ রানেই অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিলেন তারা।
হাসান মাহমুদের বলে দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারল্যান্ড এবং তিন নম্বর পেসার হিসেবে খেলতে নামা এবাদত হোসেনের বলে ফিরে গেলেন ওয়ান ডাউনে নামা মার্নাস লাবুশেন। এরপর তাসকিনের বলে ফিরে যান ক্যামেরন গ্রিন।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার কিছুটা ধীরস্থিরভাবে শুরু করেছিলেন। তবে ১২তম ওভারে গিয়ে ৪৫ রানের মাথায় উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। ২৩ রান করা জ্যাক ওয়েদারল্যান্ডকে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য হন জ্যাক। এরপর ৫২ রানের মাথায় ট্রাভিস হেডকে সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন হাসান মাহমুদ।
ওয়ান ডাউনে নামা মার্নাস লাবুশেস প্রথম থেকেই ধুঁকছিলেন। শেষে ২০ বলে খেলে মাত্র ১ রান করে এবাদত হোসেনের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
চতুর্থ উইকেটে জুটি বাধার চেষ্টা করছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন। কিন্তু তারা স্কোরবোর্ডে যোগ করেন মাত্র ১৩ রান। দলীয় ৭৪ রানের মাথায় তাসকিন আহমেদের বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য হন ক্যামেরন গ্রিন। ১৩ বলে ১৩ রান করেন তিনি।
পঞ্চম উইকেটে স্মিথ ও ক্যারে মিলে গড়েন ৫৫ রানের জুটি। যেটা ভাঙেন এবাদত। ক্যারেকে বোল্ড করেন তিনি। ৬ষ্ঠ উইকেটে ২৩ রানের জুটি গড়েন স্মিথ ও ওয়েবস্টার। এবারও সরাসরি বোল্ড আউট করে ওয়েবস্টারকে ফেরান তাসকিন।
এসি/আপ্র/১৩/০৮/২০২৬