গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

মেনু

সাপ মারতে বেজি ছেড়ে বিপদে পড়েছিল জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫০ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৪ এএম ২০২৬
সাপ মারতে বেজি ছেড়ে বিপদে পড়েছিল জাপান
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বিষধর সাপের উৎপাত কমাতে জাপানের আমামি ওশিমা দ্বীপে বেজি ছেড়েছিল কর্তৃপক্ষ। উদ্দেশ্য ছিল সাপের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু সেই উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনে। সাপের সংখ্যা কমার বদলে বেজির আক্রমণে বিপন্ন হয়ে পড়ে দ্বীপের বহু বিরল প্রাণী।

এই ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশেরও যোগ রয়েছে। ছোট ভারতীয় বেজি দক্ষিণ এশিয়ার স্থানীয় প্রাণী এবং বাংলাদেশও এর প্রাকৃতিক বিস্তারের অংশ। ১৯১০ সালে বর্তমান বাংলাদেশের গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চল থেকে কয়েকটি বেজি জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানকার বংশবিস্তার করা বেজির মধ্য থেকেই ১৯৭৯ সালে প্রায় ৩০টি বেজি আমামি ওশিমায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমামি ওশিমা দ্বীপে দীর্ঘদিন ধরেই বিষধর হাবু সাপের উপদ্রব ছিল। কৃষিজমি ও বনাঞ্চলে এসব সাপের বিচরণ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। সাপের সংখ্যা কমাতে তাই প্রাকৃতিক শিকারি হিসেবে বেজিকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

১৯৭৯ সালে ওকিনাওয়া থেকে প্রায় ৩০টি বেজি আমামি ওশিমায় নেওয়া হয়। কিন্তু পরিকল্পনায় বড় একটি ভুল ছিল। বেজি সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয়, আর হাবু সাপ মূলত রাতে শিকার করে। ফলে দুই প্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল খুবই কম।

সাপের সংখ্যা কমেনি। বরং খাবারের সন্ধানে বেজি দ্বীপের অন্যান্য প্রাণী শিকার করতে শুরু করে।

আমামি ওশিমার অনেক স্থানীয় প্রাণী দীর্ঘদিন ধরে বড় কোনো স্থলচর শিকারির মুখোমুখি হয়নি। ফলে নতুন এই শিকারির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধও ছিল দুর্বল। বেজির শিকারে বিপন্ন হয়ে পড়ে বিরল আমামি খরগোশ, মাটিতে বাসা বাঁধা পাখি, বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ ও স্থানীয় ব্যাঙ। এতে দ্বীপটির জীববৈচিত্র্যের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।

অল্পসংখ্যক বেজি দ্রুত বংশবিস্তার করে পুরো দ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাদের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায় বলে ধারণা করা হয়।

শুরু হয় বেজি নির্মূল অভিযান

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বেজি নির্মূলে অভিযান শুরু করে জাপান সরকার। ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মূল কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ২০০৫ সালে গঠন করা হয় বিশেষ দল ‘আমামি মঙ্গুজ বাস্টার্স’।

দ্বীপজুড়ে হাজার হাজার ফাঁদ বসানো হয়। বেজির গতিবিধি শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয় ক্যামেরা। তাদের লুকিয়ে থাকার স্থান খুঁজে বের করতে প্রশিক্ষিত কুকুরও কাজে লাগানো হয়।

দীর্ঘ অভিযানে ৩২ হাজারের বেশি বেজি ধরা ও অপসারণ করা হয়। অবশেষে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে, আমামি ওশিমা থেকে ছোট ভারতীয় বেজি নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে।

প্রায় ৩১ বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর এই সাফল্য আসে। এরপর ধীরে ধীরে দ্বীপটির স্থানীয় প্রাণীদেরও ফিরে আসার লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।

সাপের উৎপাত ঠেকাতে যে বেজি আনা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই বেজিই আমামি ওশিমার জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছিল। ঘটনাটি পরিবেশে কোনো নতুন প্রজাতি বা শিকারি প্রাণী পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আগে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বিবেচনার গুরুত্বও তুলে ধরে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসি/আপ্র/১৩/০৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

জিম্বাবুয়েতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ফেরি ডুবে নিহত ৪৪, নিখোঁজ বহু
১৩ আগস্ট ২০২৬

জিম্বাবুয়েতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ফেরি ডুবে নিহত ৪৪, নিখোঁজ বহু

জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি ডুবে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো...

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পের ৩৬ ঘণ্টা পর জীবিত নারীকে উদ্ধার
১৩ আগস্ট ২০২৬

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পের ৩৬ ঘণ্টা পর জীবিত নারীকে উদ্ধার

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পের একটি ভবন ধসে পড়ার প্রায় ৩৬ ঘণ্টার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩২ বছর...

দিল্লি-ওয়াশিংটনের নতুন তৎপরতায় বদলাচ্ছে আঞ্চলিক সমীকরণ
১৩ আগস্ট ২০২৬

দিল্লি-ওয়াশিংটনের নতুন তৎপরতায় বদলাচ্ছে আঞ্চলিক সমীকরণ

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ককে আরো গভীর করার তৎপরতা নতুন গতি পেয়েছে। নয়াদিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্...

চীনের অর্থনীতিকে আমূল বদলে দেওয়া ঝু রংজি আর নেই
১২ আগস্ট ২০২৬

চীনের অর্থনীতিকে আমূল বদলে দেওয়া ঝু রংজি আর নেই

চীনের অর্থনীতিকে আমূল বদলে দিয়ে দেশটিকে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত করার পথ তৈরি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই