কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পের একটি ভবন ধসে পড়ার প্রায় ৩৬ ঘণ্টার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩২ বছর বয়সী একজন নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর ড্যানিয়েলা লার্গোকে পেরেইরা শহরের একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বের করে আনা হয়।
এর আগে দমকলকর্মীরা চারটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে চাপা পড়ে থাকা লার্গোর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তারা স্ল্যাবগুলোর নিচ দিয়ে একটি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে তার কাছে পৌঁছান।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে অন্তত ১৮৮ জন নিহত হয়েছেন এবং শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
কলম্বিয়ার কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের শহর পেরেইরায় ৭৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
লার্গোর মা বার্তা সংস্থা এএফপি- কে জানান, স্থানীয় এক বাসিন্দা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাহায্যের জন্য তার মেয়ের চিৎকার শুনতে পান।
জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর একটি ছোট ক্যামেরার সাহায্যে লার্গোর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তবে তাকে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ চারটি ভারী কংক্রিটের স্ল্যাব তার কাছে যাওয়ার পথ আটকে রেখেছিল।
স্থানীয় দমকলকর্মীদের সঙ্গে রাজধানী বোগোতা থেকে আসা কর্মী এবং জাতীয় পুলিশ বাহিনীর দুর্যোগ মোকাবিলা দল মিলে লার্গোর কাছে পৌঁছানোর জন্য দুটি সুড়ঙ্গ খুঁড়তে বাধ্য হয়।
উপরের দিক থেকে খোঁড়া একটি সুড়ঙ্গের মাধ্যমে তারা লার্গোকে অক্সিজেন সরবরাহ করেন। তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয় নিচের দিক থেকে খোঁড়া দ্বিতীয় সুড়ঙ্গটির মাধ্যমে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লার্গোর উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে বলেন, এটি "এমন একটি খবর, যা আমাদের আশায় ভরিয়ে দেয়"।
এসি/আপ্র/১৩/০৮/২০২৬