বিশ্বকাপ তো শেষ হয়ে গেছে মাসখানেক আগেই। তবে সম্পর্কের টানাপোড়েনের ঘা রয়ে গেছে দগদগে। বিসিবিও সেটা অনুভব করতে পারছে। সেই বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়েই এখন ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে চায় বিসিবি।
সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা বিসিসিআইকে (বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া) সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে বিসিবি। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া ও পরে ভারতের বিশ্বকাপ খেলতে না যেতে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত, দুটি মিলিয়ে জানুয়ারিতে প্রায় মুখোমুখি অবস্থানে ছিল দুই প্রতিবেশী দেশ। সেই সময়ের সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভারতে বিশ্বকাপ না খেলতে অটল ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলা হয়নি বাংলাদেশের।
সেসময় আইসিসি ও ভারতকে নিয়ে অনেক তীর্যক কথাও বলেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টাসহ দায়িত্বশীল অনেকেই, যাদের মধ্যে ছিলেন বিসিবি কর্তারাও। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলায় সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলেছিলেন বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। ভারতের প্রতি ক্রিকেট বোর্ডের সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে এখন পরিবর্তন এসেছে। সূচি অনুযায়ী, কয়েক মাস পরই বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ভারতীয় দলের। অন্য যে কোনো সিরিজের চেয়ে এই সিরিজে আর্থিক দিক থেকে বিসিবি লাভবান হবে কয়েক গুণ বেশি।
কিন্তু সম্পর্কের বর্তমান চিত্র বহাল থাকলে ভারতীয় দলের এই সফরে আসার সম্ভাবনা সামান্যই। একই বাস্তবতা বাংলাদেশ নারী দলের ভারত সফরের ক্ষেত্রেও। তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে গত ডিসেম্বরে ভারতে যাওয়ার কথা ছিল নিগার সুলতানার দলের। কিন্তু সিরিজটি স্থগিত করে দেয় ভারতীয় বোর্ড। ভারতীয় বোর্ডের কাছে চিঠিতে এই সিরিজ দুটির কথা বলেছে বিসিবি।
বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন বললেন, সূচিতে থাকা সিরিজগুলির সঙ্গে বাড়তি আরও কিছুর আশা করছেন তারা।
“আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে আসার কথা ভারতীয় দলের এবং দ্যাটস অন। গত বছর বাংলাদেশের নারী দলের ভারতে যাওয়ার কথা ছিল, যেটা বাতিল হয়ে যায়। সেটি পুনর্র্নিধারণ দেখতে চাই আমরা।
বিসিসিআইকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, সেখানে মূল প্রসঙ্গ ছিল এটিই।” “পাশাপাশি আরও সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে পারি কি না, অন্যান্য ইভেন্ট করতে পারি কি না, এসব বলা হয়েছে। এসবের বাইরে বললে, এই ধরনের ব্যাপার আমরা সব ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সঙ্গেই করে থাকি। আমরা ফলাফল পাওয়ার আশা করছি।
তাদের কাছ থেকে দ্রুতই জানতে পারব বলে আশা রাখছি।” এই প্রসঙ্গেই সম্পর্কের অবনতির কথা মেনে নিলেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান।
“আমরা আশা করছি, ওরা আমাদেরকে (নারী দলকে) হোস্ট করবে অদূর ভবিষ্যতে। আমরা জানি যে, বিশ্বকাপ ঘিরে ওদের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা অবনতি হয়েছে তো অবশ্যই। আশা করছি, আবার আমরা এই সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করব এবং ওদের সঙ্গে সেসব প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে আবার একটা ভালো অবস্থান তৈরি হবে।”
মেয়েদের সিরিজের সম্ভাব্য কোনো সময়ও তখন জানানো হয়নি। ছেলেদের ক্রিকেটে ভারতীয় দলের সফরে আসার কথা ছিল গত বছর। কিন্তু সেটি পিছিয়ে এই বছরে চলে আসে। আগামী ২৮ অগাস্ট বাংলাদেশে আসার কথা ভারতীয় দলের। ওয়ানডে সিরিজ শুরু ১ সেপ্টেম্বর, টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৯ সেপ্টেম্বর।
ডিসি/আপ্র/০৫/০৪/২০২৬