শেষ ওভারের উত্তেজনায় ভরা এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। ম্যাচ ও সিরিজসেরা হয়েছেন তানজিদ হাসান।
২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। বিশেষ করে সালমান আলী আগা সেঞ্চুরি করে জয়ের আশা জিইয়ে রাখেন। ৪৮তম ওভারে তাসকিন আহমেদ তাকে ১০৬ রানে ফেরালে মনে হচ্ছিল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে।
কিন্তু শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। তখন মোস্তাফিজুর রহমানের করা ৪৯তম ওভারে দুটি ছক্কা মেরে নাটকীয় উত্তেজনা ছড়িয়ে দেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি। ওই সময় মোস্তাফিজ চোটও পান। তবু শেষ বলে হারিস রউফকে ১ রানে আউট করে পাকিস্তানকে চাপে ফেলেন তিনি।
শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ বলে ১৪ রান। কিন্তু রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে বড় শট নিতে পারেননি শাহীন। মাত্র দুই রান তুলতে পারেন তিনি। শেষ বলে স্টাম্পড হলে পাকিস্তান ২৭৯ রানে অলআউট হয়। তাতে ১১ রানের নাটকীয় জয় পায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ। তিনি ৪৯ রানে ৪ উইকেট নেন। মোস্তাফিজুর রহমান নেন ৩ উইকেট। নাহিদ রানা ২টি এবং রিশাদ হোসেন একটি উইকেট শিকার করেন।
তানজিদের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ২৯০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তিনি।
১০৭ বলে ১০৭ রান করে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা। দলীয় ১৯৪ রানে তার বিদায়ের পর লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় ইনিংস এগিয়ে নেন। লিটন ৪১ রানে আউট হলেও হৃদয় ৪৪ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেন।
পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ ৫২ রানে ৩ উইকেট নেন। শাহীন আফ্রিদি ও আবরার আহমেদ একটি করে উইকেট পান।
শুরুতেই পাকিস্তানের বিপর্যয়
২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ ওপেনার সাহেবজাদা ফারহানকে ৬ রানে আউট করেন। পরের ওভারে নাহিদ রানা মাজ সাদাকাতকে ফেরান। এরপর তাসকিন আবার আঘাত হেনে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ৪ রানে বোল্ড করেন।
মাত্র ১৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
পরে গাজি ঘোরি ও আব্দুল সামাদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও নাহিদ রানা ঘোরিকে ২৯ রানে বোল্ড করেন। সামাদকেও ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর সালমান আগা ও সাদ মাসুদ ৭৯ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে লড়াই ফিরিয়ে আনেন।
৩৮ রান করা সাদ মাসুদকে বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। এরপর সালমানের লড়াকু সেঞ্চুরি পাকিস্তানকে আবার আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলারদের সামনে হার মানতে হয়।
টস ও দল
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে পাকিস্তান বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠায়।
বাংলাদেশ একাদশ: সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, তাওহীদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস (উইকেটকিপার), আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, মোস্তাফিজুর রহমান।
পাকিস্তান একাদশ: সাহেবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, গাজি ঘোরি, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আগা, আব্দুল সামাদ, সাদ মাসুদ, ফাহিম আশরাফ, শাহীন আফ্রিদি (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, হারিস রউফ।
তৃতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৭৯/১০
(সালমান ১০৬, সাদ ৩৮, সামাদ ৩৪, ঘোরি ২৯, শাহীন ৩৭; তাসকিন ৪/৪৯, মোস্তাফিজ ৩/৫৪)
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯০/৫
(তানজিদ ১০৭, হৃদয় ৪৮*, লিটন ৪১, সাইফ ৩৬)
ফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী
সিরিজ: বাংলাদেশ ২–১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যাচ ও সিরিজসেরা: তানজিদ হাসান
সানা/আপ্র/১৫/৩/২০২৬