সতীর্থদের নিষ্প্রভ দিনে দ্যুতি ছড়ালেন সিকান্দার রাজা। অধিনায়কের পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে দেড়শ ছাড়াল জিম্বাবুয়ে। পরে বল হাতেও দলকে ভালো শুরু এনে দিলেন রাজা। কিন্তু ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের ঝড় ও বাকিদের অবদানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের জয়রথ চলছেই।
এখন পর্যন্ত অপরাজিত দলটি রোববার দিল্লিতে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে ৫ উইকেটে। প্রতিপক্ষের ১৫৩ রান ১৩ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে গেছে তারা।
সুপার এইটে নিজেদের গ্রুপের সেরা হয়ে সেমি-ফাইনালে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী বুধবার কলকাতায় প্রথম সেমি-ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে গত বিশ্বকাপের রানার্স-আপরা। গ্রুপ পর্বে কিউইদের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতেছিল তারা। লক্ষ্য তাড়ায় ১৪ রানে ২ উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে পড়তে দেননি ব্রেভিস। পাল্টা আক্রমণে চারটি ছক্কা ও দুটি চারে ১৮ বলে ৪২ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন তিনি।
পরে বাকি কাজ সারেন ট্রিস্টান স্টাবস ও জর্জ লিন্ডা। দল হারলেও অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন রাজা। চারটি ছক্কা ও আটটি চারে ৪৩ বলে ৭৩ রান করেন তিনি। জিম্বাবুয়ের আর কেউ ৩০ রানও করতে পারেননি। পরে অফ স্পিনে ২৯ রান খরচায় ধরেন তিন শিকার। ম্যাচের প্রথম বলেই লিন্ডাকে চার মারেন টাডিওয়ানাশে মারুমানি। ওভারের শেষ বলে একাদশে ফেরা বাঁহাতি স্পিনারকে ছক্কায় ওড়ান ব্রায়ান বেনেট। নিঃসন্দেহে ভালো শুরু টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়ের জন্য।
কিন্তু পরের ওভারেই ধাক্কা খায় তারা। মারুমানির স্টাম্প ভেঙে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম শকার ধরেন কিউনা মাফাকা। নিজের প্রথম ওভার করতে এসে বেনেটকে ফিরিয়ে দেন আনরিখ নরকিয়া। ক্রিজে গিয়েই দ্রুত রান তোলায় মনোযোগ দেন রাজা।
কর্বিন বশের ওভারে দুটি চারের সঙ্গে মারেন একটি ছক্কা। পরে নরকিয়াকে হাঁকান একটি করে চার ও ছক্কা। আরেক প্রান্তে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকেন তার সতীর্থরা। ডিয়ন মায়ার্স, রায়ান বার্ল, টনি মুনিয়োঙ্গা পারেননি রাজাকে সঙ্গ দিতে। ক্লাইভ মাডান্ডেকে নিয়ে দলের রান একশ পার করেন রাজা।
এক প্রান্তে দলের রানের চাকা সচল রাখা রাজা ফিফটি স্পর্শ করেন ২৯ বলে। সপ্তদশ ওভারে মাফাকাকে ছক্কায় ওড়ানোর পরের বলেই বাজে রাজার বিদায় ঘণ্টা। কাটার ডেলিভারিতে ডেভিড মিলারের হাতে ধরা পড়েন জিম্বাবুয়ের দলপতি।
তিন চারে মাডান্ডের অপরাজিত ২৬ রানে দেড়শ পার করে জিম্বাবুয়ে। রান তাড়ায় নামা দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে ইনিংসের তৃতীয় বলেই ছোবল দেন রাজা। তাকে কাট করার চেষ্টায় কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন কুইন্টন ডি কক। নিজের পরের ওভারে এইডেন মার্করামের স্টাম্প ভেঙে দেন রাজা।
উইকেটে গিয়ে মুখোমুখি প্রথম বলেই চার মেরে রানের খাতা খোলেন ব্রেভিস।
আরেক প্রান্তে রায়ান রিকেলটনও রানের চাকায় দম দেন। ব্লেসিং মুজারাবানি ও রাজাকে একটি করে ছক্কা মারা রিকেলটন পরে ব্র্যাড ইভান্সকে ওড়ান টানা দুটি ছক্কায়। ইভান্সের ওই ওভারেই বিদায় নেন তিনি বাউন্ডারিতে বার্লের চমৎকার ক্যাচে। চারটি ছক্কায় ৩১ রান করে ফেরেন রিকেলটন। গ্রায়েম ক্রিমের এক ওভারে দুটি ছক্কা মারেন ব্রেভিস। ওয়েলিংটন মাসাকাদজার ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকান মিলার।
দুটি করে ছক্কা-চারে ১৬ বলে ২২ রান করে ফেরেন তিনি। ভাঙে ২৫ বল স্থায়ী ৫০ রানের জুটি। রাজাকে ছক্কা মারার এক বল ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন ব্রেভিসও। তখনও ৫৬ বলে ৫৩ রান প্রয়োজন দক্ষিণ আফ্রিকার। এরপর আর দলকে উইকেট হারাতে দেননি স্টাবস ও লিন্ডা।
তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়নি প্রোটিয়াদের। ৪৪ বলে ৫৩ রানের জুটিতে অবিচ্ছন্ন থাকেন এই দুইজন। কোনো বাউন্ডারি না মারা স্টাবস করেন ২১ রান। একটি ছক্কা ও দুটি চারে ৩০ রান আসে লিন্ডার ব্যাট থেকে। সুপার এইটে কোনো ম্যাচই জিততে পারল না জিম্বাবুয়ে। তবে দারুণ একটি টুর্নামেন্ট কাটিয়েছে তারা বলতেই হবে। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার পর শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল আফ্রিকার দলটি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৫৩/৭ (মারুমানি ৭, বেনেট ১৫, মায়ার্স ১১, রাজা ৭৩, বার্ল ৫, মুনিয়োঙ্গা ২, মাডান্ডে ২৬*, ইভান্স ৮, মাসাকাদজা ১*; লিন্ডা ৩-০-২২-১, মাফাকা ৪-০-২১-২, এনগিডি ৪-০-২৯-১, নরকিয়া ৪-০-২৯-১, বশ ৪-০-৪০-২, মার্করাম ১-০-১১-০)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৭.৫ ওভারে ১৫৪/৫ (মার্করাম ৪, ডি কক ০, রিকেলটন ৩১, ব্রেভিস ৪২, মিলার ২২, স্টাবস ২১*, লিন্ডা ৩০*; রাজা ৪-০-২৯-৩, মুজারাবানি ৩.৫-০-৩২-১, ইভান্স ৩-০-২২-১, ক্রিমার ২-০-২৭-০, মাসাকাদজা ২-০-২৩-০, বার্ল ২-০-১২-০, বেনেট ১-০-৯-০)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: সিকান্দার রাজা
ডিসি/ আপ্র/ ১/৩/২০২৬