গত এশিয়া কাপ থেকেই আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। বিশেষ করে হেড কোচ সারোয়ার ইমরান ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিকে ঘিরে সমালোচনার পারদ ছিল তুঙ্গে।
এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমস থেকে ফেরার পর সোমবার নারী দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বসেছিলেন বিসিবির নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এশিয়ান গেমস শুরুর আগে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়তে চেয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) মেইল দিয়েছিলেন জ্যোতি।
গুঞ্জন ছিল ওয়ানডে থেকেও সরে দাঁড়াতে পারেন তিনি। তবে অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন জ্যোতিই। এটা নিশ্চিত করে বাবু বলেন, ‘আজকে আমি ঘোষণা করেছি-তুমি (জ্যোতি) অধিনায়ক থাকছো, অস্ট্রেলিয়ায় যাবে, তুমি অধিনায়ক হিসেবে।’
বৈঠকে দলের সমস্যা এবং কীভাবে আরও ভালো করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাবু বলেন, ‘এশিয়ান গেমস থেকে আসার পরে প্রথম আজকে তাদের সঙ্গে একটু বসলাম। তাদের আসলে কোনো সমস্যা আছে কি না, কী করলে আরও ভালো করবে-সবকিছু নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’ অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে যাওয়ার আগে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও কথা বলা হয়েছে।
বাবু বলেন, ‘আগামী ৩ তারিখে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছে, তিনটি ওয়ানডে খেলতে। সেখানে তারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে। আমরা তাদের উৎসাহমূলক কথা বলেছি-আরেকটু ভালো করলে ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো খেলব।
ভালো খেলতে খেলতে একসময় আমরা সব দেশকেই হারাতে পারব।’ বৈঠকে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা এবং কোড অব কন্ডাক্ট বা আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দলের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আচরণবিধি মেনে চলার কথা বলেছি।
আমাদের এখন মূল দরকার দলের ভেতরে শৃঙ্খলা এবং আচরণবিধি বজায় রাখা। এগুলো যদি আমরা ঠিকভাবে বজায় রাখতে পারি, তাহলে আমাদের আরও ভালো হবে, ইনশাআল্লাহ।’ হেড কোচ সারোয়ার ইমরানের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গে বাবু বলেন, আগে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করলে বিষয়টি সহজেই সমাধান করা যেত।
তিনি বলেন, ‘এটা তো শুধু একটি ই-মেইল দেওয়ার সমাধান নয়। ই-মেইল দেওয়ার আগে বা গণমাধ্যমে কথা বলার আগে আমাদের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টা অনেক সহজ হতো এবং ঠিক থাকতো। কিন্তু এখানে সেটা ভেঙেছে।’ কোচের আচরণে নারী ক্রিকেটাররা কিছুটা মনোবল হারাতেন বলেও জানান নারী উইংয়ের এই চেয়ারম্যান।
এ বিষয়ে ক্রিকেটারদের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন কি না? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। তারা তো বলেছে দেখেই তো আমরা পেয়েছি, না হলে তো আমরা পেতাম না।’ বাবু আরও বলেন, ‘ক্রিকেট একটা শৃঙ্খলার খেলা, অনেক মার্জিত খেলা।
আমি যেটা বলি, এটা রাজকীয় খেলা। এখানে যারা কোচ হন বা টিম ম্যানেজমেন্টে থাকেন, কারও কাছ থেকেই আমরা অসদাচরণ আশা করি না।’ তিনি যোগ বলেন, ‘সব কোচ তো একরকম হয় না। উনি হয়তো একটু বেশি উগ্র মেজাজের। সবসময় ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঠিক করেননি। সেই কারণে মেয়েরা একটু মনোবল হারাতো।’
ডিসি/আপ্র/২৮/০৯/২০২৬