ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের ‘উপহার’ পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। তবে প্রথমার্ধেই চার মিনিটের ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দেয় ইংল্যান্ড। বিরতির পর পেনাল্টি মিস করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ হারান দলটির অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
শেষ পর্যন্ত দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন। বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন।
এর কিছুক্ষণ পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পেনাল্টি মিসের হতাশায় ডুবে ইংল্যান্ড। এরপর একসঙ্গে বদলি হিসেবে মাঠে নামা অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল স্পেনের হয়ে গোল করেন।
এই জয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের টানা অপরাজেয় থাকার রেকর্ড বেড়ে দাঁড়াল ৩৯ ম্যাচে। সবশেষ ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে হেরেছিল তারা। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।
‘এ’ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেন ১৫টি শট নেয়, যার পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটিও ছিল লক্ষ্যে। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো।
ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ফিরছিলেন। ঠিক তার পেছনে যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই ছিল না তার। সুযোগটি হাতছাড়া করেননি বার্সেলোনা তারকা।
প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।
দ্বিতীয় মিনিটে ইয়ামালের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম গোল। এর আগে ১৯৫৭ সালে স্কটল্যান্ড ও ১৯৫৩ সালে হাঙ্গেরি এই মাঠে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠিয়েছিল। অষ্টম মিনিটে আবারও ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ান ফেররান তোরেস।
ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শেই ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা এই ফরোয়ার্ড।
তবে অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়। ১৬তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর আরেকটি দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন তোরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। সামনে একমাত্র বাধা ছিলেন গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।
২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তোরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এবারও সামনে ছিলেন শুধু গোলরক্ষক, কিন্তু শট বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়। প্রথম আধা ঘণ্টায় খুব একটা ভালো করতে না পারলেও কয়েক মিনিটের ঝলকেই দুই গোল করে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল থাকা গর্ডন ৩৬তম মিনিটে সমতা ফেরান। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার এই উইঙ্গার।
৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন। তাকে আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে লেগে বল জালে জড়ায়।
বিশ্বকাপে আট ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করা স্পেন এখানে চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল খেয়ে বসে। ইংল্যান্ডের রেকর্ড গোলস্কোরার কেইনের এটি ছিল ১২৩ ম্যাচে ৮৬তম আন্তর্জাতিক গোল।
দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের। ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের পর এই প্রথম ইংল্যান্ডের হয়ে পেনাল্টি মিস করলেন কেইন।
৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তোরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে মাঠে নামান স্পেন কোচ। মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।
৭৪তম মিনিটে স্পেনের জয়সূচক গোলেও জড়িয়ে থাকে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল। বাকি সময়ে ম্যাচে ফেরার মতো উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ইংল্যান্ড।
এই গ্রুপের আরেক ম্যাচে চেকিয়ার মাঠে ২-১ গোলে জিতেছে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের তিনটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সী ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।
ডিসি/আপ্র/২৭/০৯/২০২৭