আর্থিক অস্বচ্ছতা, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং বিসিবির ওপর লোকসানের বিপুল বোঝা পরিহার করে টুর্নামেন্টটিকে সম্পূর্ণ নতুন ও পেশাদার কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে চলতি বছরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) না আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
সম্প্রতি বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই ঘোষণা দিয়ে জানান, আগামী আসর থেকেই বিপিএলকে পূর্ণাঙ্গ ও সুশৃঙ্খল রূপে আয়োজন করতে চান তারা। তবে বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগে পড়েছেন দেশের পেশাদার ক্রিকেটাররা, যারা প্রধানত ঘরোয়া ক্রিকেটের ওপর নির্ভরশীল।
জাতীয় দলের বাইরে থাকা অধিকাংশ ক্রিকেটারের আয়ের বড় অংশই আসে বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) থেকে। ইতোমধ্যেই চলতি বছরের ডিপিএলে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। তার ওপর বিপিএল স্থগিত হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ার শঙ্কায় ক্রিকেটাররা।
বোর্ডের আচরণবিধির কারণে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটার নিজেদের উদ্বেগ ও দাবির কথা জানিয়েছেন।
একজন সিনিয়র বাঁ-হাতি পেসার বলেন, বিপিএল স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বিকল্প কোনো টুর্নামেন্টের আয়োজন করে খেলোয়াড়দের আর্থিক ক্ষতি পোষানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
একইসঙ্গে ডিপিএলে পারিশ্রমিক বকেয়া পড়ার দীর্ঘদিনের সমস্যা তুলে ধরে চুক্তিকৃত অর্থ শতভাগ পাওয়ার নিশ্চয়তা দাবি করেন তিনি।
অন্য এক অলরাউন্ডার উল্লেখ করেন, গত কয়েক আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পারিশ্রমিক না দেওয়া ও ফিক্সিং বিতর্কের কারণে বিদেশি ক্রিকেটারদের সামনে চরম লজ্জায় পড়তে হয়েছে।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের আসরে ‘দুর্বার রাজশাহী’র বিদেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বকেয়া থাকায় ম্যাচ বয়কটের মতো ঘটনা ঘটেছিল। ফলে টুর্নামেন্ট পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক মনে করলেও বিকল্প টুর্নামেন্ট এবং ক্রিকেটারদের আয়ের সুরক্ষায় একটি স্থায়ী কাঠামোর দাবি জানান তারা।
ক্রিকেটারদের অধিকার রক্ষাকারী সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, বিপিএল বন্ধের কারণে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক।
তিনি বিসিবিকে অলস সময় পার না করে বিকল্প কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের আহ্বান জানান যেন ক্রিকেটাররা অন্তত তাঁদের আয়ের সুযোগ বজায় রাখতে পারেন।
কোয়াব সভাপতি জোর দিয়ে বলেন, আইপিএল, পিএসএল বা বিগ ব্যাশের মতো আন্তর্জাতিক মানের বিপিএল আয়োজনের স্বার্থে এক বছর টুর্নামেন্ট স্থগিত রাখতে ক্রিকেটাররা ছাড় দিতে রাজি আছেন, তবে ক্রিকেটারদের রুটি-রুজির কথা বিসিবিকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
গত দুই বছর ধরে ডিপিএল থেকেও ক্রিকেটাররা প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না উল্লেখ করে তিনি বিসিবি ও ক্রিকেটারদের জন্য একটি ‘উইন-উইন’ সমাধান বের করার তাগিদ দেন।
ডিসি/আপ্র/২২/০৮/২০২৮