গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

মেনু

প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া

বাংলাদেশের জন্য যে অর্জন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৫৩ পিএম, ২২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১০ এএম ২০২৬
বাংলাদেশের জন্য যে অর্জন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি

সোমবার মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রাজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত ও প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদবিরোধী গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা বিষয়ে দুটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করে দুই দেশ -ছবি পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে। শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়া, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, ডিজিটাল অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক কূটনীতিসহ বহুমাত্রিক বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সমঝোতা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রাজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত ও প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদবিরোধী গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা বিষয়ে দুটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করে দুই দেশ।

শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেওয়ার আহ্বান: বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দ্রুত পুনরায় উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আরো বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করেন।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান দুই দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করছে।

তিনি জানান, বৈঠকে অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা প্রদান এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়েছে।

দুই দেশই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত, বৈষম্যহীন ও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে একমত হয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং অভিবাসন ব্যয় হ্রাসের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আয়োজন এবং নতুন শ্রমচুক্তির খসড়া প্রস্তুতের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

শ্রমিক সুরক্ষায় গুরুত্ব মালয়েশিয়ার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দেশটির শ্রমবাজারে কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। তবে শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের শোষণ, দুর্ব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগত লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি নিয়োগ ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

তার ভাষ্য, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা একদিকে দুই দেশের প্রয়োজন পূরণ করবে, অন্যদিকে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের স্বার্থও সুরক্ষিত রাখবে।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে অগ্রগতি: দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।

দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয়েছে। পারস্পরিক লাভজনক একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন সাংবাদিকদের জানান, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে এবং এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে যৌথ ব্যবসায়িক কাউন্সিল গঠনের অগ্রগতিকেও স্বাগত জানানো হয়েছে।

বিনিয়োগে মালয়েশিয়াকে আহ্বান: কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

টেলিযোগাযোগ, অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত শিল্প, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, অর্ধপরিবাহী শিল্প ও স্মার্ট উৎপাদন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতকে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জ্বালানি সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা: বৈঠকে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরসহ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আহ্বান জানায়।

এলএনজি সরবরাহ ও অবকাঠামো উন্নয়নে পেট্রোবাংলা ও পেট্রোনাসের বিদ্যমান সহযোগিতা আরো কার্যকর করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।

হালাল শিল্প ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশীদারত্ব: বিশ্বব্যাপী হালাল শিল্পে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। হালাল সনদ ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একমত হয়েছে।

একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা, আর্থিক প্রযুক্তি এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিতে অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে প্রযুক্তি পার্ক, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়। অর্ধপরিবাহী শিল্পে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

শিক্ষা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা: বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় অধ্যয়ন করছে। দুই দেশ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারত্ব, যৌথ গবেষণা, কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতাভিত্তিক মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারেও আলোচনা হয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা শিল্প, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

আসিয়ান ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন: বৈঠকে বাংলাদেশ আবারো আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া গঠনমূলক সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।

এ ছাড়া ফিলিস্তিন প্রশ্ন, আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, মানবপাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মতবিনিময় হয়।

ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা: যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালের মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও শ্রম সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো বিস্তৃত করে।

উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য মালয়েশিয়ার সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং মানুষে-মানুষে সম্পর্কের ভিত্তিতেই দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, মাত্র ১৮ ঘণ্টার সফর হলেও শ্রমবাজার, মুক্ত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করেছে। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের উদ্দেশে রওনা হন।

তারেক রহমানের সম্মানে আনোয়ার ইব্রাহিমের রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্ন ভোজ: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং বিভিন্ন সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ আয়োজন দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের উষ্ণতারই প্রতিফলন হয়ে ওঠে।

সোমবার (২২ জুন) পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এ ভোজসভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। অন্যদিকে অতিথিদের স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তাঁর সহধর্মিণী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।

এর আগে একই দিন পুত্রাজায়ার ‘পরদানা পুত্রা’য় দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, হালাল শিল্প, শিক্ষা, কৃষি, জনশক্তি উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং দুটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়। 
আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক সংগীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ’ পরিবেশন করে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। দুই প্রধানমন্ত্রী ও তাঁদের সহধর্মিণীরা গভীর আগ্রহে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে ভবনের বাইরে বেরিয়ে এলে প্রবেশপথের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মালয়েশিয়ার শিশু-কিশোরেরা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানায়। প্রধানমন্ত্রী এবং জুবাইদা রহমান শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

পরে বাসভবনের সামনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণীকে বিদায় জানান আনোয়ার ইব্রাহিম ও ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। সেখান থেকে মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁদের কুয়ালালামপুরের সাংগ্রি-লা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফর। কূটনৈতিক মহলে সফরটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্তকরণ, বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্যেই এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সফরের মালয়েশিয়া পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা ও চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
সানা/আপ্র/২২/৬/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

১৯ দিনেও খাবার খায়নি মাজারের সেই কুমির
২২ জুন ২০২৬

১৯ দিনেও খাবার খায়নি মাজারের সেই কুমির

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘি থেকে সরিয়ে আনা মাদি কুমিরটি ১৯ দিন পার হলেও কোনো খ...

নীরব ত্যাগের অনন্ত ছায়া বাবা
২১ জুন ২০২৬

নীরব ত্যাগের অনন্ত ছায়া বাবা

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থনকে বিশ্বব্যাপী প্রচার করতে চায় আর্জেন্টিনা
২০ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থনকে বিশ্বব্যাপী প্রচার করতে চায় আর্জেন্টিনা

আইজিপি-আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই