জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুৃলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান ও রাজনৈতিক সচিব জেমস স্টুয়ার্ট।
বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, দলের সদস্য মনিরা শারমিন ও নাভিদ নওরোজ শাহ উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, দলটির রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
বৈঠকে এনসিপি নেতারা সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে জনগণের মধ্যে থাকা প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়গুলো মার্কিন প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত ও তাঁর প্রতিনিধিদল চুক্তির বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ চুক্তি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং উভয় দেশের জনগণ এতে উপকৃত হবে।
এ ছাড়া বৈঠকে গণভোটের রায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। এনসিপি নেতারা গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান।
জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজনৈতিক সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠক শেষে এনসিপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সানা/আপ্র/২২/৭/২০২৬