গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

মেনু

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না দিলে মিলবে যে শাস্তি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৩৬ পিএম, ০২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২০:৫৮ এএম ২০২৬
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না দিলে মিলবে যে শাস্তি
ছবি

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক ছেলে-মেয়েরই আইনগত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন না করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, ‘পিতা’ বলতে সন্তানের জনক এবং ‘মাতা’ বলতে সন্তানের গর্ভধারিণীকে বোঝানো হয়েছে। ভরণ-পোষণের মধ্যে খাওয়া-দাওয়া, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং সঙ্গ প্রদান অন্তর্ভুক্ত।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এ দায়িত্ব পালন করবে। পিতা-মাতার একই স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করা যাবে না।

এ ছাড়া সন্তানকে নিয়মিত পিতা-মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। পিতা-মাতা আলাদাভাবে বসবাস করলে সন্তানের দৈনিক বা মাসিক আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত দিতে হবে।

আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদি এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানির ভরণ-পোষণের দায়িত্বও নাতি-নাতনির ওপর বর্তাবে। এ দায়িত্বও পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, ৩ বা ৪ ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইনের ৫(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদি বা নানা-নানির ভরণ-পোষণে বাধা দেন বা অসহযোগিতা করেন, তাহলে তাকেও অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে একই দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ বাংলাদেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন।

তিনি বলেন, আইনের ৩ ধারায় প্রত্যেক সন্তানের জন্য পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাসে পাঠানো নিষিদ্ধ করে পারিবারিক বন্ধনকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

অ্যাডভোকেট খালিদ আরো বলেন, ৫ ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান দায়িত্বহীন সন্তানদের জন্য একটি কঠোর আইনি বার্তা। আর ৪ ধারার মাধ্যমে দাদা-দাদি ও নানা-নানির ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নাতি-নাতনির ওপর অর্পণ করে তিন প্রজন্মের পারিবারিক বন্ধনকে আরো শক্তিশালী করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আইনের ৮ ধারায় আপোষ-মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে পারিবারিক বিরোধ আদালতের বাইরে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে, যা দেশের সামাজিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই আইনজীবী বলেন, ২০২৩ সালের বিধিমালায় ভরণ-পোষণ তহবিল ও পরিচর্যাকেন্দ্র গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এটি অসহায় প্রবীণদের জন্য নতুন আশার আলো।

তিনি বলেন, এ আইন শুধু শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, সন্তানদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যও প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে পারিবারিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হবে এবং প্রবীণরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপত্তা পাবেন।

সূত্র: বাসস

এসি/আপ্র/২/৭/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ
২০ আগস্ট ২০২৬

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারো রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে।বৃহস্পতিবার...

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ শতাংশ, সরকারের প্রতি ৫৪ শতাংশ
২০ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ শতাংশ, সরকারের প্রতি ৫৪ শতাংশ

সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে পরিচালিত এক জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনে ৬৬ দশ...

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পানি-স্যানিটেশনে দক্ষিণ এশিয়ায় পিছিয়ে বাংলাদেশ
২০ আগস্ট ২০২৬

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পানি-স্যানিটেশনে দক্ষিণ এশিয়ায় পিছিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘ শিশু তহবিলের যৌথ মনিটরিং কর্মসূচির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের...

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ, সিইসির দাবি ঐতিহাসিক, বিশ্ব তাকিয়ে
২০ আগস্ট ২০২৬

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ, সিইসির দাবি ঐতিহাসিক, বিশ্ব তাকিয়ে

আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পর...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ শতাংশ, সরকারের প্রতি ৫৪ শতাংশ

সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে পরিচালিত এক জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ৫৪ দশমিক ৫০ শতাংশ মানুষ। সরকারের কর্মকাণ্ডকে খারাপ বলেছেন ৩২ দশমিক ৯০ শতাংশ। ডপলার অপিনিয়ন রিসার্চের ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই জরিপে সরকারের সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 6 ঘন্টা আগে