দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের উচ্চপদস্থ ১২ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তানে যাচ্ছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আগামীকাল ৪ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত পাকিস্তানের লাহোরে সিভিল সার্ভিসেস একাডেমিতে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে একজন অতিরিক্ত সচিব ও ১১ জন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা অংশ নেবেন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সালমা সিদ্দিকা মাহতাব। এছাড়া যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মো. আবু রায়হান মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মো. ফিরোজ আহমেদ ও মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মো. তৌফিক ইমাম, মো. রায়হান আখতার ও মুহাম্মদ আব্দুস সালাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ এফ এম এহতেশামূল হক, স্থানীয় সরকার বিভাগের মোহাম্মদ সামছুল হক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মো. জিল্লুর রহমান এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির জিয়া আহমেদ সুমন এ তালিকায় রয়েছেন।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, এ প্রশিক্ষণের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে পাকিস্তান সরকার; বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক ব্যয় থাকবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের উষ্ণতার প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানি জাহাজ আগমন এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে সম্পর্কের এ অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়।
তবে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটি সুশাসন ও মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের সুশাসন সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান ১২৯তম, যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩তম। একইভাবে ২০২৫ সালের মানব উন্নয়ন সূচকে পাকিস্তান ১৬৮তম এবং বাংলাদেশ ১৩০তম স্থানে রয়েছে।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, সত্তরের দশকের পর এই প্রথম দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সানা/আপ্র/৩/৫/২০২৬