রাজধানীর নিউমার্কেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এখনো অন্ধকারেই রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও দুই শুটারসহ কাউকেই শনাক্ত বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডটি খুব দ্রুত ও নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে হামলা শেষে মোটরসাইকেলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুই শুটার সন্ধ্যা থেকেই নিউমার্কেট ও নীলক্ষেত এলাকায় অবস্থান করছিল।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রের ধারণা, পূর্বপরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডে টিটনকে ডেকে আনা হয়েছিল নিউমার্কেট এলাকায়। পরে মাত্র চার মিনিটের মধ্যে তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এরপর হামলাকারীরা বিজিবি গেট, রায়েরবাজার ও কেরানীগঞ্জ রুট ব্যবহার করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা হলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসি ক্যামেরা বিশ্লেষণ করে শুটারদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ঢাকার অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারের বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন রাজধানীর দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী-ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলাল এবং সানজিদুল ইসলাম ইমন।
তদন্ত সূত্রের দাবি, নিহত টিটন ও অভিযুক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর, বছিলা ও নিউমার্কেট এলাকার কোরবানির পশুর হাটের ইজারা ও আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এসেছে।
টিটনের পরিবার দাবি করেছে, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত এবং এর সঙ্গে পারিবারিক কোনো বিরোধ নেই। নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বলেন, টিটন দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিল এবং মোবাইল ফোনের পরিবর্তে অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ করত।
তিনি আরো জানান, ঘটনার আগের দিন টিটন জানিয়েছিল আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা চলছে। কিন্তু পরদিনই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পিচ্চি হেলাল দাবি করেছেন, তার সঙ্গে টিটনের কোনো সাম্প্রতিক যোগাযোগ ছিল না এবং তাকে হত্যার সঙ্গে জড়ানো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করলে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে।
টিটনের পরিবার আরো অভিযোগ করেছে, হত্যার পর একটি অডিও ছড়িয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা দ্রুত ফরেনসিক তদন্ত এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, কোরবানির পশুর হাট, আধিপত্য বিস্তার ও পুরোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা রয়েছে। তবে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ বলছে, শুটারদের শনাক্তে অভিযান চলছে এবং সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে অগ্রগতি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একাধিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। অতীতের মতো এবারও দ্রুত ও পেশাদার কিলিং মিশনের ধরণ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে।
সানা/আপ্র/২/৫/২০২৬