বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে করা ‘অসম চুক্তি’ জনস্বার্থকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
শনিবার (২ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি বলেন, কৌশলগত খাতে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির ওপর অতিনির্ভরতা এবং অসম চুক্তি জাতীয় স্বার্থকে গভীর সংকটে ফেলছে।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বচ্ছতা, জবাবদিহির ঘাটতি এবং মানসিক দুর্নীতি প্রশাসন থেকে বিচারব্যবস্থা পর্যন্ত গণতান্ত্রিক ভারসাম্যকে দুর্বল করছে।
আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র যখন ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে ভিন্নমত দমন করে এবং শিক্ষা, জ্বালানি ও প্রশাসনের মতো খাতে কাঠামোগত সংস্কার উপেক্ষা করে, তখন তা সামাজিক ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করে এবং উন্নয়নের নামে বৈষম্য সৃষ্টি করে।
তিনি জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জনগণের ইতিহাসের চেতনাকে ধারণ করে অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু বলেন, জ্বালানি খাতে বারবার সংকট দেখিয়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ঘটাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে জ্বালানি ও পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নীতিনির্ধারণে জনগণের বাস্তব অভিজ্ঞতা উপেক্ষিত হচ্ছে। সোলার রোডম্যাপ বাস্তবসম্মত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে সামিনা লুৎফা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সংকট ও বৈষম্য একটি মানবিক ও সুসংগঠিত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
তিনি এমপিও ও নন-এমপিও শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য দূর করে একীভূত জাতীয় শিক্ষক কাঠামো গঠনের দাবি জানান এবং শিক্ষা খাতে বাজেটের অন্তত ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সানা/ডিসি/আপ্র/২/৫/২০২৬