বাংলাদেশের লোকসংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি কুদ্দুস বয়াতি সাম্প্রতিক এক আবেগঘন স্মৃতিচারণে তার সংগীত জীবনের দর্শন, শেকড়ের গান এবং লোকজ সুরের স্বত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি বর্তমান সময়ে লোকসুরের বিকৃতি এবং শিল্পীর সত্তা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কুদ্দুস বয়াতির মতে, লোকজ সুর কেবল শব্দ বা সুরের সমষ্টি নয়; এটি একটি গভীর আত্মিক ঐতিহ্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশের লোকজ সুর কোনো ব্যক্তির একক সম্পত্তি নয়, তবে এসব সুরের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক অটুট। তার ভাষায়, কেউ তার সুর ভেঙে নতুন গান তৈরি করলেও সেই সৃষ্টির ভেতরে তার আত্মার উপস্থিতি থেকেই যায়।
নিজের বহুল জনপ্রিয় গান ‘লিচুরও বাগানে’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, গানটি মূলত একটি প্রাচীন ঘেটু গানের অংশ। তার বাবা ছিলেন একজন খ্যাতিমান ঘেটু গায়ক ও ওস্তাদ, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘বাইন’ বলা হতো। পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এই সুর ও সংগীত তার ভেতরে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রবাহিত হয়েছে।
প্রয়াত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদ-এর সঙ্গে কাজের স্মৃতি উল্লেখ করে কুদ্দুস বয়াতি বলেন, চলচ্চিত্র ঘেটুপুত্র কমলা-এর জন্য হুমায়ূন আহমেদ তাকে দিয়েই গানটি লিখিয়েছিলেন। তার দাবি, গানটির আদি সুর ও রূপ তারই সৃষ্ট।
‘ছোট ছোট লিচু গুলি, তুমিও তুলো আমিও তুলি,
তুমি দাও আমার মুখে, আমি দিই তোমার মুখে,
কে দিলো পিরিতের বেড়া লিচুরও বাগানে’-
এই সহজ অথচ গভীর আবেগময় বাণীর মধ্য দিয়ে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন গ্রামীণ বাংলার চিরায়ত প্রেমের ছবি।
বক্তব্যের শেষে কুদ্দুস বয়াতি স্পষ্ট করেন, গ্রামবাংলার লোকসুর বাঙালির সম্মিলিত ঐতিহ্য। তবে নতুন সৃষ্টির ভিড়ে এসব গানের আদি রূপ এবং পূর্বপুরুষদের গাওয়া সেই দরদভরা ‘আত্মা’ যেন হারিয়ে না যায়-সেই আহ্বানই জানিয়েছেন এই গুণী শিল্পী।
সানা/ডিসি/আপ্র/২/৫/২০২৬