দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি নদীর পানি প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নেত্রকোণাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাশ জানান, বর্তমানে কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে এবং নেত্রকোণায় বৃষ্টিপাত থামছে না। আগামী তিন দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে, যা বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের নলজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে, নেত্রকোণার ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোণা ও আটপাড়া পয়েন্টে এবং হবিগঞ্জের সুতাং নদী সুতাং-রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট অঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও সুনামগঞ্জ অংশে তা স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে ভুগাই-কংস নদীর পানি বাড়ছে এবং ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে। উজানে ভারি বৃষ্টিপাত না হলেও হাওর অববাহিকায় মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা নদ-নদীর পানি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, ১২ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিকে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটারকে মাঝারি-ভারি এবং ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটারকে ভারি বৃষ্টিপাত ধরা হয়।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী দুই দিনে বাড়তে পারে এবং সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জের ভুগাই-কংস ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাউলাই নদী খালিয়াজুরী পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
এর ফলে নেত্রকোণার হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি সমতলও আগামী তিন দিনে বাড়তে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুড়ি নদী দ্বিতীয় দিনে এবং মনু ও খোয়াই নদী তৃতীয় দিনে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যা এসব জেলার নিম্নাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
সানা/আপ্র/০১/৫/২০২৬