রাজধানী ঢাকায় আজ শুক্রবার (১ মে) ভোর থেকেই টানা অঝোর বৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে নগরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। একই দিনে দুপুরের আগেই ঢাকাসহ দেশের ১৭ জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ভোর পাঁচটার কিছু পর শুরু হয়ে সকাল সাতটার কিছু আগে পর্যন্ত হওয়া ভারী বৃষ্টিতে গ্রিনরোড, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরসংলগ্ন সড়ক, জিগাতলা, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়া, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, মালিবাগ রেলগেট, মৌচাক, মগবাজার ও হাতিরঝিলের মধুবাগ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে। সকাল আটটার পরও অনেক সড়কে পানি দেখা গেছে। পশ্চিম পান্থপথের শেখ রাসেল স্কয়ার এলাকাও পানিতে তলিয়ে যায়।
আজ ছুটির দিন হওয়ায় সকালে সড়কে যানবাহন কম ছিল, ফলে ভোগান্তি কিছুটা কম হলেও কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ এড়ানো যায়নি। জিগাতলা থেকে কারওয়ান বাজারে যাওয়ার পথে সাংবাদিক দাউদ ইসলাম বলেন, জিগাতলায় রিকশার পাদানি পর্যন্ত পানি উঠে যায়। দুই পা তুলে বসেও পানি ছিটকে কাপড় ভিজে যায়, যা নিয়ে তাঁকে সারা দিন অফিস করতে হচ্ছে।
খিলগাঁও থেকে কারওয়ান বাজারে আসা গণমাধ্যমকর্মী ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, মে দিবসের ছুটিতে বাস না পেয়ে তাঁকে ভেঙে ভেঙে দুই রিকশায় আসতে হয়েছে। বৃষ্টি ও পানির কারণে রিকশা সংকট ছিল। মালিবাগ এলাকায় নোংরা পানির মধ্যে দিয়ে হেঁটে আসার পর তিনি রিকশা পান এবং ভাড়াও দিতে হয়েছে দ্বিগুণ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ ভোর পাঁচটা থেকে দুপুর একটার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থির আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। ঢাকাসহ ১৭টি জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব জেলার নদীবন্দরকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলো হলো—পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট। পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে, সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রপাতসহ স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টি, যা হঠাৎ তীব্র আকার নিতে পারে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে।
গত রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ কমেছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৬০ মিলিমিটার এবং আগের দিন পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১২১ মিলিমিটার। বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রাও কমেছে; গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা টেকনাফে প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ময়মনসিংহে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩১ এবং সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। দিনভর আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি দুপুরের দিকে বজ্রসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সানা/আপ্র/০১/৫/২০২৬