সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস গত রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড় ছিল যাত্রীদের ভিড়ে ব্যস্ত। তবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও বাসের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। মোড়ে যে কয়েকটি বাস দেখা গেছে, সেগুলোর প্রতিটিই ছিল যাত্রীতে ঠাসা। ফলে বহু যাত্রী বাসে উঠতে না পেরে হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন।
একজন যাত্রী রত্না বেগম বলেন, বাসে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে একটি বাস মিস করতে হয়েছে। পরের বাস কবে আসবে তা অনিশ্চিত। কয়েক দিন ধরেই রাস্তায় বাসের সংখ্যা কম দেখা যাচ্ছে। আগে একই রুটে একাধিক কোম্পানির কয়েকটি বাস একসঙ্গে চললেও এখন তা অনেক কমে গেছে।
সন্ধ্যায় বাংলামোটর মোড়েও একই চিত্র দেখা যায়। শাহবাগ দিক থেকে আসা লেনে মাত্র কয়েকটি বাস চলাচল করছিল। ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল থাকলেও সড়কের বড় অংশ ফাঁকা ছিল।
চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ডিজেল সংগ্রহে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় অনেক বাস নিয়মিতভাবে রাস্তায় নামতে পারছে না। এতে প্রায় বিশ শতাংশ বাস চলাচল বন্ধ বা কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পরিবহন মালিকদের মতে, জ্বালানি সংগ্রহ করতে চালকদের দৈনিক কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে বাসের ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে এবং সেবায় বিঘ্ন ঘটছে।
এক বাসচালক বিল্লাল হোসেন জানান, তেল সংগ্রহেই দিনে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় চলে যায়, ফলে অতিরিক্ত একটি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানান, রাজধানী ও শহরতলীতে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার বাস চলাচল করে। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে অন্তত বিশ শতাংশ বাস কম চলছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে যাত্রীসেবায়।
রাইদা এন্টারপ্রাইজের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি নিয়ে একাধিক ট্রিপ দেওয়া যেত, কিন্তু এখন সীমিত জ্বালানির কারণে একটি ট্রিপই কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে গণপরিবহন ব্যবস্থায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তারা বাসকে জ্বালানি স্টেশনে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের অবকাঠামো গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন।
বুয়েটের একজন পরিবহন বিশেষজ্ঞ বলেন, জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ সময় ব্যয় হলে বাস সেবা ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। তাই গণপরিবহনের জন্য আলাদা অগ্রাধিকার ব্যবস্থা জরুরি।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যেমন চার্জিং স্টেশন, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করা দরকার।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। পর্যাপ্ত বাস না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে গাদাগাদি করে বা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে গন্তব্যে যাচ্ছেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/২০/৪/২০২৬