গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

মেনু

বিদায়ের ইঙ্গিত মানবাধিকার কমিশনের চিঠিতে

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৩৩ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩৭ এএম ২০২৬
বিদায়ের ইঙ্গিত মানবাধিকার কমিশনের চিঠিতে
ছবি

খোলা চিঠির মাধ্যমে নিজেদের ‘বিদায়ের’ ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও চার সদস্য -ছবি সংগৃহীত

খোলা চিঠির মাধ্যমে নিজেদের ‘বিদায়ের’ ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও চার সদস্য। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, যে অধ্যাদেশের ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তা সংসদে রহিত হওয়ায় নিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর নেই-এমনটাই তাঁদের ধারণা।
তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দেশনা বা বার্তা পাননি বলেও জানিয়েছেন কমিশনের সদস্যরা।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীসহ সদস্য নূর খান, শরিফুল ইসলাম, ইলিরা দেওয়ান ও নাবিলা ইদ্রিসের স্বাক্ষরে জনতা ও সরকারের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি দেওয়া হয়। চিঠির শুরুতেই নিজেদের ‘সদ্য বিদায়ী মানবাধিকার কমিশনার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়-যা নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন ও আলোচনার সূত্রপাত।

তাঁরা কি পদত্যাগ করেছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনের সদস্য নূর খান বলেন, খোলা চিঠিতে পদত্যাগের কোনো ঘোষণা নেই। তিনি বলেন, “আমরা পদত্যাগ করিনি, সরকারও আমাদের পদত্যাগ করতে বলেনি। তবে যে আইনের বলে আমরা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলাম, সেটি যেহেতু সংসদে রহিত হয়েছে, তাহলে আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর নেই-এটাই আমাদের উপলব্ধি।” তবে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানবাধিকার কমিশনে ব্যাপক রদবদল হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে কমিশনের এখতিয়ার ও কাঠামো পরিবর্তন করে। এর ভিত্তিতে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি কমিশন পুনর্গঠন করা হয়, যেখানে চেয়ারম্যানসহ একাধিক সদস্য নিয়োগ পান। তাদের মধ্যেই ছিলেন আলোচিত গুম কমিশনের দুই সদস্যও।
সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের বিল পাস হয়। এর ফলে কমিশনের বর্তমান সদস্যদের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে তৈরি হয় নতুন অনিশ্চয়তা। সদস্যদের মতে, আইন বাতিল হওয়ায় তাঁদের অবস্থানও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে।


খোলা চিঠির মূল বক্তব্য: খোলা চিঠিতে তিনটি মূল অংশ রয়েছে-
একদিকে সংসদে উপস্থাপিত তথ্যের ব্যাখ্যা,
অন্যদিকে অধ্যাদেশ নিয়ে সরকারের আপত্তির বিশ্লেষণ,
এবং ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নের গুণগত মান নিয়ে প্রস্তাবনা।

চিঠির শেষাংশে বলা হয়েছে, সরকারের অবস্থানে একটি মৌলিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। একদিকে বলা হচ্ছে আরো শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করা হবে, অন্যদিকে বিদ্যমান সংশোধন মানলে কার্যত দুর্বল কাঠামোই ফিরে আসবে, যা মানবাধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হতে পারে।

অনিশ্চয়তার ছায়া কমিশনের ভবিষ্যতে: আইনগত কাঠামো পরিবর্তন, নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার কারণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদত্যাগপত্র বা সরকারি সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসেনি-ফলে পরিস্থিতি রয়ে গেছে ধোঁয়াশায়।


সানা/ডিসি/আপ্র/১৩/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী
১৩ এপ্রিল ২০২৬

পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অন...

বাংলা নববর্ষে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
১৩ এপ্রিল ২০২৬

বাংলা নববর্ষে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।...

ইলিশের নামে বাজারে চন্দনা সার্ডিন
১৩ এপ্রিল ২০২৬

ইলিশের নামে বাজারে চন্দনা সার্ডিন

বৈশাখের উৎসব ঘিরে চাহিদা তুঙ্গে

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বেড়েছে মৃৎশিল্পের কদর
১৩ এপ্রিল ২০২৬

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বেড়েছে মৃৎশিল্পের কদর

বছরজুড়ে মাটির তৈরি খেলনাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চাহিদা কম থাকলেও পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ বরণকে কে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

মতামত জানান

‘অসম ও দেশবিরোধী’ মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। আপনি কি এই দাবির সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ২ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে