ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের মধ্যে যাদের আয় বার্ষিক কোটি টাকার ওপরে তাদের আয়ের ওপর ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর বসানোর কথা ভাবছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর।
অন্য দেশের উদাহরণ টেনে সংস্থার চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, বৈষম্য কমাতে এনবিআরের ‘বড় অস্ত্র’ আয়কর আদায় বাড়ানো।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। অর্থনীতির প্রতিবেদকদের এ সংগঠনের তরফে আয় বৈষম্য কমাতে বেশি আয়ের মানুষের ওপর সর্বোচ্চ আয়কর ৩০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ডিসপ্যারিটি কমানোর জন্য এনবিআরের কাছে সবচেয়ে বড় অস্ত্র যে ইনকাম ট্যাক্স কালেকশন বাড়ানো। অন্য দেশে কিন্তু ৪৫, ৫০, ৫৫ পার্সেন্ট পর্যন্ত ইন্ডিভিজুয়াল মার্জিনাল ইনকাম ট্যাক্স রেট। আমাদের দেশেও এটা ৬০ পার্সেন্ট পর্যন্ত ছিল আশির দশকে।
আমরা সেটা কমাতে কমাতে অনেক কমিয়ে ফেলেছি এবং এটা সবার জন্য না, এটা যারা সুপার ইনকাম করেন অনেক বেশি আয় করেন বছরে কোটি টাকা ইনকাম করেন তাদের জন্য। কোটি টাকার উপরে আমার মনে হয় আমরা আরো ৫ পার্সেন্ট ট্যাক্স রেট বাড়াতে পারি ২০২৭-২৮ (করবর্ষ) এর জন্য।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে আগামী অর্থবছর ও করবর্ষের জন্যও আয়কর হার অগ্রিম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
কর কাঠামো অনুযায়ী পরবর্তী প্রথম স্তরে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা আয়ের জন্য (মোট আয় ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত) ১০ শতাংশ হারে কর, তার পরের ৪ লাখ টাকার ওপর (মোট ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত) ১৫ শতাংশ হারে কর, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর (মোট ১৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত) ২০ শতাংশ হারে কর, তার পরের ২০ লাখ টাকার ওপর (মোট ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত) ২৫ শতাংশ হারে কর এবং এর ওপরে থাকা আয়ের জন্য ৩০ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করা হয়।
আবদুর রহমান বলেন, এবার ২৫-২৬ (অর্থবছর) তো চেঞ্জ করার সুযোগ নাই ইভেন ২৬-২৭ (অর্থবছর) ও আমরা চেঞ্জ করব না। কারণ এটা আমরা ঘোষণা করেছি এবং করদাতাকে বলেছি আপনি আগাম হার জেনে গেছেন, আপনি সে অনুসারে পরিকল্পনা করেন। তাহলে আমরা, এবার যদি কোনো চেঞ্জ আসে সেটা আসবে আমাদের ২৭-২৮ এ।
এবং সেক্ষেত্রে যদি আমরা একদম হাই এন্ড ইনকাম যারা করবে এক কোটি, দেড় কোটি ইভেন দুই কোটি বা চার কোটি পাঁচ কোটিও হতে পারে-বাট একটা সিগন্যাল যে যাদের ইনকাম অনেক বেশি, তাদের আরো বেশি পরিশোধ করা উচিত।
কর্পোরেট হার কম চায় নোয়াব: এদিন সকালে এনবিআরের সঙ্গে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-নোয়াবের প্রাক বাজেট আলোচনা হয়।
সেখানে নোয়াবের নতুন সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, কোভিড মহামারী ও পরবর্তী সময়ে নানা শিল্পকে প্রণোদনা দেওয়া হলেও সংবাদপত্র শিল্পকে সরকার-ঘোষিত প্রণোদনার আওতায় যুক্ত করা হয়নি। নোয়াবের পক্ষ থেকে সংবাদপত্র শিল্পকে বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করছি।
লিখিত প্রস্তাবে নিউজপ্রিন্টের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার (বর্তমানে প্রযোজ্য ৩ শতাংশ শর্ত সাপেক্ষে), ভ্যাট ১৫ শতাংশ প্রত্যাহার, বিজ্ঞাপনের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে হ্রাস ও আমদানিকৃত কাঁচামালে ওপর অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ৫ শতাংশ থেকে কমানো এবং সংবাদপত্রের অনন্য ভূমিকা ও বর্তমান আর্থিক সংকটের নিরিখে এই শিল্পকেও রপ্তানিমুখী বা বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পের মত বিবেচনা করে ১০ শতাংশ কর্পোরেট কর নির্ধারণের দাবি করা হয়। বর্তমানে এ শিল্পে সাড়ে ২৭ শতাংশ করপোরেট কর রয়েছে।
বিকালে ইআরএফের সঙ্গে আলোচনায় সংগঠনটির সভাপতি দৌলত আক্তার মালা লিখিত বক্তব্যে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের উপর করের চাপ কমাতে এমএফএস এর মাধ্যমে অতিরিক্ত কর ফেরতের ব্যবস্থা করা এবং যাদের করযোগ্য আয় নেই, তাদের ব্যাংক সুদের উপর কর্তিত কর ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা উপকরণে করহার ০.৫ শতাংশে সীমিত রাখা; সরকারি চাকুরিজীবিদের মতো বেসরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড করমুক্ত রাখা; ব্যক্তি করদাতার সর্বোচ্চ করহার ৩০-৩৫ শতাংশ নির্ধারণ; ভ্যাটের একক হার ৭ শতাংশ নির্ধারণ ও বাজারমূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পদ কর আদায়ের প্রস্তাব রাখেন তিনি।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩১/৩/২০২৬