মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাইয়ের আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের কল্যাণে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুনরায় যাচাই চলছে, যেখানে ‘ভুয়া’ ব্যক্তিদের পর্যায়ক্রমে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (২ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রী। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা ও পুনর্বাসন: মন্ত্রী জানান, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের চলমান কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করা হয়েছে। জুলাইয়ের যোদ্ধাদের কল্যাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও সচেতন। তিনি জানতে চেয়েছেন, এখন পর্যন্ত কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আহতদের ক, খ ও গ-এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করে মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক শ্রেণির জন্য প্রায় ২০ হাজার টাকা, খ শ্রেণির জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং গ শ্রেণির জন্য নির্ধারিত হারে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। শহীদ প্রতিটি পরিবারকে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়েছে।
জুলাইয়ের সংগ্রামে আহত ও শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ পরিদপ্তরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনে বিভিন্ন স্কিম নেওয়া হয়েছে। যেসব শহীদ পরিবারের সন্তান স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে, তাদের শিক্ষাভাতা দিয়ে আবার পড়াশোনায় ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, যাঁরা হাত-পা হারিয়েছেন বা কর্মক্ষমতা কমে গেছে, তাঁদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ তৈরির বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে। বিআরডিবি বা অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে পুনর্বাসন প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি শিক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, পিতৃহারা হওয়ার কারণে কোনো শিশুই যেন শিক্ষার বাইরে না চলে যায়।
মুক্তিযোদ্ধা তালিকা যাচাই: মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ। পরবর্তী সময়ে তা বেড়ে আড়াই লাখে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে বিপুলসংখ্যক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে ১৬ জন সচিব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ভাতা বাতিল করা হয়েছে।
তিনি জানান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) দেশের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তালিকা যাচাই-বাছাই করছে। ইতোমধ্যে ৩০০ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যেন সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান, সে জন্য সরকার উদ্যোগী। আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যারা অন্যায়ভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও করা হবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্ধশতক পার হলেও এখনো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। এখন পর্যন্ত তালিকায় সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে সাতবার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ও মানদণ্ড বদলানো হয়েছে ১২ বার। সর্বশেষ পরিবর্তনটি হয় বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সরকারপ্রধানকে অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও তুলে ধরা হয়েছে।
সানা/২/৩/২০২৬