গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

গাজী নজরুলকে কমিটিতে রাখা নিয়ে বিতর্ক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৩০ পিএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:১৫ এএম ২০২৬
গাজী নজরুলকে কমিটিতে রাখা নিয়ে বিতর্ক
ছবি

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম -ফাইল ছবি

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটিতে প্রথমে তাকে সদস্য করা হলেও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে আপত্তি জানান। পরে কমিটি পুনর্গঠন করে গাজী নজরুলের নাম বাদ দেওয়া হয়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিনকে কমিটির সভাপতি করা হয়। সদস্য হিসেবে অন্যদের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকেও রাখা হয়। কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জানতে চান, গাজী নজরুল ইসলামকে বিরোধী দলের কোটা থেকে কমিটিতে রাখা হয়েছে কি না।

জবাবে চিফ হুইপ বলেন, বর্তমানে সংসদে ৩৪৯ জন সদস্য রয়েছেন এবং প্রত্যেককে অন্তত একটি সংসদীয় কমিটিতে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। গাজী নজরুলকে অন্য কোনো কমিটিতে রাখা সম্ভব হয়নি বলেই তাকে সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটিতে রাখা হয়েছে। তাকে বিরোধী দলের কোটা থেকে সদস্য করা হয়নি।

এরপর শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের কোটা থেকে না রাখা হলে তাদের আপত্তি নেই।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, গাজী নজরুল এর আগে অন্য সংসদীয় কমিটিতে ছিলেন এবং বিরোধী দলের অনুরোধে সেখান থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। আবার নতুন কমিটিতে তাকে রাখায় প্রশ্নটি উঠেছে বলে তার মনে হচ্ছে।

চিফ হুইপ বলেন, যতক্ষণ গাজী নজরুলের সংসদ সদস্যপদ বহাল আছে, ততক্ষণ তাকে একজন সংসদ সদস্য হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। এর আগে তাকে দুটি কমিটিতে রাখা হলেও বিরোধী দলের অনুরোধে নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, এমন একটি কমিটিতে গাজী নজরুলকে রাখা হয়েছে, যেখানে বিরোধী দলের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, ‘আমি চাই যে সকল সদস্য অবদান রাখার সুযোগ পাক।’

চিফ হুইপ আরো বলেন, সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির কাজও খুব বেশি নয়। বিরোধী দলের আপত্তি থাকলে গাজী নজরুলের নাম বাদ দিতেও সরকারি দলের আপত্তি নেই।

সদস্যপদ শূন্য করার ‘বুদ্ধি’ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। গাজী নজরুলের সংসদ সদস্যপদ এখনো বহাল আছে বলেই তাকে কোনো একটি কমিটিতে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিরোধী দলের দেওয়া তালিকায় তার নাম না থাকায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোতে তাকে রাখা হয়নি বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুলের সদস্যপদ শূন্য করতে নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারকে চিঠি দিয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু দল থেকে বহিষ্কার করলেই সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যপদ শূন্য হয় না।

এরপর বিরোধী দলকে একটি ‘বুদ্ধি’ দেওয়ার কথা বলেন তিনি। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যি সত্যিই চান আসনটি শূন্য হোক, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের পক্ষে ভোট দেয় নাই আপনাদের এবং ভোটদানে বিরত ছিল, সেই জায়গায় ৭০ অনুচ্ছেদ কিন্তু আসে।’

এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করা হলে সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী সহযোগিতা করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই বুদ্ধিটা বিনা পয়সায় দিলোাম।’

এরপর শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝে মাঝেই তাদের এ ধরনের ‘টিপস’ দেন এবং এতে সংসদ প্রাণবন্ত হয়।

গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর এখন তার বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘ফ্লোর ক্রসিং’ করার অভিযোগ তোলার সুযোগ নেই বলেও মত দেন তিনি।

তবে নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাকে দল নৈতিক কারণে বহিষ্কার করেছে, তাকে কোনো সংসদীয় কমিটিতে না রাখাই ভালো।

তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটি পরে পুনর্গঠন করা যায়। গাজী নজরুলকে কোনো কমিটিতে না রাখলে তা নৈতিকতার দিক থেকে একটি উদাহরণ হবে।

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার বলেন, বিরোধী দলের বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে তারা গাজী নজরুলের সংসদ সদস্যপদ বহাল রাখতে চান, তবে তাকে কোনো সংসদীয় কমিটিতে রাখতে চান না।

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার সম্মানে চাইলে এই কমিটি থেকেও গাজী নজরুলের নাম বাদ দেওয়া যেতে পারে এবং কমিটি পুনর্গঠন করা সম্ভব।

একই সঙ্গে তিনি আবারো বলেন, দল থেকে বহিষ্কার করলেই সংসদ সদস্যপদ চলে যায় না। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়া বা ভোটদানে বিরত থাকার ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি আসতে পারে বলে তিনি মত দেন।

জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে। ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়টি আছে কি না, তা নিয়ে তার ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।

তবে নৈতিকতার ভিত্তিতে গাজী নজরুলকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব সমর্থন করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

আলোচনা শেষে চিফ হুইপ বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব করা হচ্ছে।

এরপর তিনি নতুন করে কমিটির সদস্যদের নাম প্রস্তাব করেন। সেখানে গাজী নজরুল ইসলামের নাম রাখা হয়নি। পুনর্গঠনের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে গৃহীত হলে গাজী নজরুলকে বাদ দিয়েই সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি পুনর্গঠিত হয়।
সানা/ডিসি/আপ্র/৭/৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

এলএনজি টার্মিনালে মার্কিন বিনিয়োগে স্বচ্ছতার বার্তা
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এলএনজি টার্মিনালে মার্কিন বিনিয়োগে স্বচ্ছতার বার্তা

মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কাজ করতে ‘অত্যন্ত আগ্রহী’, দ্রুত বাস্তবায়ন দেখাতে পারলে প্রস্তাব সর্ব...

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে জাপানের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের...

হামের টিকার সংকটের পেছনে নীতি বদলের জটিলতা
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হামের টিকার সংকটের পেছনে নীতি বদলের জটিলতা

টিকা কেনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা ও ইউনিসেফের সতর্কতা উপেক্ষার কারণে বিগত অন্তর্বর্তী স...

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন প্রত্যাহার না হলে আন্দোলন জোরদারের হুঁশিয়ারি জামায়াতের
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন প্রত্যাহার না হলে আন্দোলন জোরদারের হুঁশিয়ারি জামায়াতের

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনকে ‘কোরআন-সুন্নাহবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই