রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গেন্ডারিয়ার করাতীটোলা ও স্বামীবাগের মুন্সীরটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন চা-দোকানি আলমগীর (৩৩), পথচারী সিয়াম (১৮) ও আশা আক্তার (২০)। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, সিয়ামের বুকের বাঁ পাশে, আলমগীরের মাথায় এবং আশা আক্তারের ডান পায়ে গুলি লেগেছে। তিনজনই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও আহতদের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও গোলাগুলি চলছিল। সিয়াম জানান, তিনি যাত্রাবাড়ী এলাকায় থাকেন এবং সেখানে একটি হোটেলে কাজ করেন। সন্ধ্যায় গেন্ডারিয়ার মুন্সীরটেকে তাঁর ফুফার চায়ের দোকানে গিয়েছিলেন। হঠাৎ বাইরে মারামারি শুরু হলে তিনি দোকানের ভেতর থেকে সাটার বন্ধ করছিলেন। এ সময় গুলি এসে তাঁর গায়ে লাগে।
আলমগীরের স্ত্রী জান্নাতি আক্তার জানান, তাঁর স্বামীর সেখানে চায়ের দোকান রয়েছে। সন্ধ্যায় দোকানের সামনে মারামারি ও গোলাগুলি শুরু হলে দোকানের ভেতরে থাকা অবস্থায় তাঁর স্বামীর কপালে গুলি লাগে। তবে আলমগীরের বাবা সাইদুল ইসলামের ভাষ্য, আলমগীর বাসায় ছিলেন। কে বা কারা তাঁকে ডেকে নেওয়ার পর বাসা থেকে বের হয়ে চায়ের দোকানের দিকে যাওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
আহত আশা আক্তার জানান, তিনি ওই এলাকাতেই থাকেন। সন্ধ্যায় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মারামারির মধ্যে পড়ে যান। এ সময় তাঁর ডান পায়ে গুলি লাগে। কারা গোলাগুলি করছিল, তা তিনি জানেন না।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে
পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সক্রিয় সদস্য মো. মনির হোসেন ও তাঁর ভাগনে রাসেল মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত অটো সজলের লোকজনকে মারধর করেন। পরে মনির হোসেন ওই এলাকার বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে তাঁর কাছে থাকা একটি অবৈধ পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। পরে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, অটো সজলের লোকজনের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয় তাঁদের একজনের চাচাকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তবে এসব তথ্য পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের ভাষ্য; ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গেন্ডারিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. রিপন জানান, গোলাগুলিতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, পাওয়া দুই প্রতিবেদনে সিয়ামের গুলিবিদ্ধ হওয়ার স্থান নিয়ে বর্ণনায় অসঙ্গতি ছিল—এক জায়গায় ডান কাঁধ এবং অন্যদিকে বুকের বাঁ পাশ বলা হয়েছে। হাসপাতাল ও পুলিশ ক্যাম্পের তথ্যকে অধিক নির্ভরযোগ্য ধরে এখানে বুকের বাঁ পাশের তথ্যটি রাখা হয়েছে।
সানা/আপ্র/৩১/৮/২০২৬