দুধ চা অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ—সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে বিকেলের আড্ডা, এমনকি রাতের শেষে এক কাপ চা না হলে যেন দিনটাই অসম্পূর্ণ লাগে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত দুধ চা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দুধ চায়ে সাধারণত চিনি বেশি থাকে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এতে সাময়িকভাবে ভালো লাগা তৈরি হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্লুকোজ কমে গিয়ে অস্থিরতা, ক্লান্তি ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দিতে পারে। ফলে আবার চা খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়—যা ধীরে ধীরে এক ধরনের নির্ভরতায় রূপ নিতে পারে।
এছাড়া চায়ে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণে প্রভাব ফেলে, যা অস্থায়ী ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করে। কিন্তু বারবার এই উদ্দীপনা নিতে গেলে শরীর সহনশীল হয়ে পড়ে, ফলে একই অনুভূতি পেতে বেশি চা প্রয়োজন হয়—এতে নির্ভরতা আরও বাড়ে।
গবেষণাতেও এ বিষয়ে সতর্কবার্তা রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর এফেক্টিভ ডিজঅর্ডারস-এর একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত দুধ চা পানকারীদের মধ্যে হতাশা, দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। যদিও এটি সরাসরি কারণ-প্রভাব সম্পর্ক প্রমাণ করে না, তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ নির্দেশ করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমস্যা মূলত পানীয়তে নয়—বরং এর অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে। ক্লান্তি, চাপ বা খারাপ লাগা কাটাতে যদি বারবার দুধ চায়ের ওপর নির্ভর করা হয়, তাহলে স্বাভাবিক আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।
কী করা যাবে
দুধ চা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি। দিনে কত কাপ চা পান করছেন এবং কেন পান করছেন—এই বিষয়গুলো সচেতনভাবে খেয়াল করা উচিত। বিকল্প হিসেবে লেবু চা, হার্বাল চা বা বেশি পানি পান করা যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক চাপ কমানোর স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, দুধ চা উপভোগ করুন—but সীমার মধ্যে। অতিরিক্ত নির্ভরতা যেন আপনার শরীর ও মন—দুটোকেই চাপে না ফেলে।
এসি/আপ্র/০৫/০৫/২০২৬