মুরগির মাংস আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অন্যতম জনপ্রিয় উপাদান। উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরের জন্য বেশ উপকারী। তবে মুরগির সব অংশ সমান স্বাস্থ্যকর নয়—কিছু অংশ নিয়মিত খেলে উপকার মিললেও কিছু অংশ এড়িয়ে চলাই ভালো।
সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর অংশ
মুরগির বুকের মাংস (চামড়া ছাড়া) সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। এতে চর্বি কম, প্রোটিন বেশি এবং ক্যালরি তুলনামূলক কম থাকে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা স্বাস্থ্য সচেতন, তাদের জন্য এটি আদর্শ।
যেসব অংশ কম খাওয়া ভালো
চামড়া
মুরগির চামড়ায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। বেশি খেলে কোলেস্টেরল বাড়তে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
রান (লেগ ও থাই)
রসালো ও সুস্বাদু হলেও এই অংশে ফ্যাট ও ক্যালরি বেশি। তাই ওজন বা কোলেস্টেরল সমস্যা থাকলে সীমিত খাওয়া উচিত।
ফুসফুস
এই অংশে ব্যাকটেরিয়া থাকার ঝুঁকি বেশি। রান্নার পরও কিছু জীবাণু থেকে যেতে পারে, তাই না খাওয়াই নিরাপদ।
অন্ত্র ও ভেতরের অঙ্গ
অন্ত্রে জীবাণু থাকার ঝুঁকি বেশি। যকৃৎ (লিভার) ও কিডনিতে শরীরের বর্জ্য জমা হতে পারে, তাই এগুলো পরিমিত খাওয়া উচিত, বিশেষ করে যাদের কোলেস্টেরল বেশি।
লেজ ও ঘাড়
এই অংশে বিভিন্ন গ্রন্থি থাকায় সহজে জীবাণু জমতে পারে। ঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে ক্ষতিকর হতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত ও ভাজা মুরগি
প্রসেসড মুরগির খাবারে লবণ, প্রিজারভেটিভ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি বেশি থাকে। আবার ডুবো তেলে ভাজা মুরগিতে ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হয়, যা হৃদরোগ ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
রান্নার সময় যা খেয়াল রাখবেন
মুরগি ভালোভাবে পরিষ্কার করে রান্না করতে হবে এবং সম্পূর্ণ সেদ্ধ নিশ্চিত করতে হবে। আধা কাঁচা মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ।
শেষ কথা
মুরগি পুষ্টিকর খাবার হলেও সঠিক অংশ বেছে খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করাই আসল বিষয়। স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখলে মুরগির মাংস হতে পারে একটি নিরাপদ ও উপকারী খাদ্য।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া মেডিকেল নিউজ টুডে
এসি/আপ্র/০৪/০৫/২০২৬