প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাবেক সঙ্গীকে পুরোপুরি ভুলতে কত দিন সময় লাগে? কয়েক মাস, এক বছর, নাকি আরো বেশি? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার প্রতি আবেগের বন্ধন কাটিয়ে উঠতে গড়ে প্রায় আট বছর সময় লাগতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে এই সময় এক নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এ বিষয়ে একটি গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘সোশ্যাল সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড পার্সোনালিটি সায়েন্স’ সাময়িকীতে। এতে ৩০০ জনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অংশ নেন, যাঁদের অন্তত দুই বছর স্থায়ী প্রেমের সম্পর্ক কয়েক বছর আগে ভেঙে গিয়েছিল।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বিচ্ছেদের পর গড়ে প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গিয়েছিল। এরপরও তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, সাবেক সঙ্গীর প্রতি কিছুটা আবেগ তখনো রয়ে গেছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার প্রতি আবেগের তীব্রতা অর্ধেকে নেমে আসতে গড়ে ৪ দশমিক ১৮ বছর সময় লাগে। আর সেই আবেগের বন্ধন প্রায় পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগতে পারে প্রায় আট বছর।
তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, বিচ্ছেদের পর আবেগ কাটিয়ে ওঠার সময় ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। কিছু মানুষ কয়েক বছর পরও সাবেক সঙ্গীর প্রতি এমন আবেগ অনুভব করেন, যা সম্পূর্ণ অপরিচিত কোনো ব্যক্তির প্রতি তাদের অনুভূতির চেয়ে বেশি।
যোগাযোগ রাখলে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে আবেগ
গবেষণায় দেখা গেছে, বিচ্ছেদের পরও সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখলে পুরোনো সম্পর্কের আবেগ কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে।
অন্যদিকে, নতুন সম্পর্কে জড়ালেই যে আগের সম্পর্কের স্মৃতি ও আবেগ দ্রুত মুছে যাবে, এমন কোনো প্রমাণ গবেষণায় পাওয়া যায়নি।
গবেষকেরা আরও দেখতে পেয়েছেন, যাদের মধ্যে উদ্বেগপ্রবণতা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে সাবেক সঙ্গীর প্রতি আবেগ কাটিয়ে উঠতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে।
যেসব সাবেক দম্পতির সন্তান রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে শুরুতে আবেগের বন্ধন তুলনামূলক শক্তিশালী থাকতে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে সেই আবেগ অপেক্ষাকৃত দ্রুত কমে আসার প্রবণতাও গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষণার ফলাফল বলছে, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক শেষ হলেও আবেগের বন্ধন তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হয়ে যায় না। তবে আট বছরকে সবার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ব্যক্তির মানসিক অবস্থা, সম্পর্কের ধরন এবং বিচ্ছেদের পর সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এসি/আপ্র/২৭/৯/২০২৬