স্বপ্ন মানুষকে শুধু ভবিষ্যতের কল্পনায় ডুবিয়ে রাখে না, সেই স্বপ্ন পূরণের পথও দেখায়। প্রত্যেক মানুষেরই কোনো না কোনো স্বপ্ন থাকে। কা স্বপ্ন ব্যক্তিগত সাফল্য ঘিরে, কারো সমাজের কল্যাণে, আবার কেউ স্বপ্ন দেখেন পুরো পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার। সেই স্বপ্নই মানুষকে নতুন করে বাঁচতে শেখায়, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়।
আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব স্বপ্ন দেখা দিবস। প্রতিবছর এ দিনে মানুষকে নিজের স্বপ্ন, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করা হয়। ২০১২ সালে ওজিওমা এগুওনউয়ের উদ্যোগে দিবসটির যাত্রা শুরু হয়।
ঘুমের মধ্যে দেখা স্বপ্ন মানুষের মনে নানা অনুভূতি তৈরি করে। অন্যদিকে, জেগে দেখা স্বপ্ন মানুষকে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে ও সেই লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করে। স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশাতেই অনেকে প্রতিদিন নতুন উদ্যমে পথচলা শুরু করেন।
স্বপ্ন থেকেই বদলে গেছে পৃথিবী
পৃথিবীর অনেক নতুন ভাবনা ও উদ্ভাবনের সূচনা হয়েছে মানুষের স্বপ্ন থেকে। বছরের পর বছর ধরে মানুষের চিন্তা, কল্পনা ও স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেয়েছে নানা আবিষ্কারে। কবি-সাহিত্যিকদের অসংখ্য সৃষ্টি, গান ও লেখার পেছনেও রয়েছে স্বপ্ন ও কল্পনার প্রেরণা।
তবে স্বপ্ন শুধু মনে লালন করার বিষয় নয়। তাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন পরিকল্পনা, চেষ্টা ও পরিশ্রম। বিশ্ব স্বপ্ন দেখা দিবসের মূল ভাবনাও হলো নিজের স্বপ্ন ও লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেওয়া।
‘আমার একটি স্বপ্ন আছে’
স্বপ্নের কথা উঠলেই মনে পড়ে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের বিখ্যাত ভাষণ ‘আমার একটি স্বপ্ন আছে’। বর্ণবৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি, যেখানে গায়ের রঙের কারণে কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না।
সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে মানুষের সমান অধিকারের দাবিকে এগিয়ে নিয়েছেন।
ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের স্বপ্ন নিয়ে একটি বহুল প্রচলিত উক্তি রয়েছে। তিনি বলেছিলেন, স্বপ্ন সেটি নয়, যা মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে; স্বপ্ন সেটিই, যা পূরণের প্রত্যাশা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।
এই ভাবনাই মনে করিয়ে দেয়, স্বপ্নের সঙ্গে থাকতে হয় দৃঢ় সংকল্প ও নিরলস প্রচেষ্টা।
আজ নিজের স্বপ্ন নিয়ে ভাবুন
জীবনে বড় কিছু অর্জনের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে কী করতে হবে, কোথা থেকে শুরু করতে হবে এবং কোন বাধাগুলো অতিক্রম করতে হবে, তা নিয়েও ভাবতে হয়।
বিশ্ব স্বপ্ন দেখা দিবস হতে পারে নিজের স্বপ্নগুলো নতুন করে মূল্যায়নের একটি উপলক্ষ। কয়েক বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান এবং সেই জায়গায় পৌঁছাতে এখন থেকেই কী করা প্রয়োজন, আজই তার একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন।
নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সাহস, ধৈর্য ও পরিশ্রম। শুধু স্বপ্ন দেখলেই চলবে না, সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রতিদিন ছোট ছোট পদক্ষেপও নিতে হবে।
আজকের দিনটি তাই নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখার। নিজের ইচ্ছা, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার। যে স্বপ্ন একদিন মনে জন্ম নিয়েছিল, সেটিকে বাস্তবে রূপ দিতে আজ থেকেই শুরু হতে পারে নতুন পথচলা।
এসি/আপ্র/২৬/৯/২০২৬