ব্যস্ত জীবনে ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য আলাদা সময় বের করা অনেকের কাছেই কঠিন। তবে ত্বক ভালো রাখতে দীর্ঘ সময়ের কোনো জটিল রুটিনের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই ত্বকের নানা সমস্যা কমানো এবং অকাল বার্ধক্য ঠেকাতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
সূর্য থেকে ত্বক রক্ষা করুন
ত্বকের যত্নে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে বলিরেখা, বয়সের ছাপসহ বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বাইরে বের হওয়ার সময় কমপক্ষে ৩০ এসপিএফযুক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রায় দুই ঘণ্টা পরপর পুনরায় লাগান। সম্ভব হলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন।
ঘন বুননের লম্বা হাতার পোশাক, লম্বা প্যান্ট ও চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি ব্যবহার করেও ত্বককে রোদ থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়। প্রয়োজনে অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী পোশাক ব্যবহার করতে পারেন।
ধূমপান এড়িয়ে চলুন
ধূমপান শুধু শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের জন্যই ক্ষতিকর নয়, ত্বকের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ত্বকসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ধূমপান থেকে দূরে থাকা জরুরি।
ধূমপান ছাড়তে সমস্যা হলে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।
ত্বকের সঙ্গে কোমল আচরণ করুন
অতিরিক্ত গরম পানি, কড়া সাবান ও দীর্ঘ সময় গোসল ত্বকের স্বাভাবিক তেল ও আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই গোসলের সময় অতিরিক্ত গরম পানির পরিবর্তে উষ্ণ পানি ব্যবহার করুন এবং সময়ও খুব বেশি দীর্ঘ করবেন না।
কড়া সাবান বা ডিটারজেন্টের পরিবর্তে ত্বকের উপযোগী মৃদু পরিষ্কারক ব্যবহার করা ভালো। গোসল বা মুখ ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষে না মুছে আলতো করে চাপ দিয়ে পানি শুকিয়ে নিন।
ত্বক শুষ্ক হলে নিয়মিত উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দিনের বেলায় বাইরে বের হলে সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষার জন্য এসপিএফযুক্ত ময়েশ্চারাইজারও ব্যবহার করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্যকর খাবার খান
ত্বকের পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাবারের বিকল্প নেই। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য ও চর্বিহীন প্রোটিন রাখুন। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং পরিশোধিত শর্করা সীমিত রাখুন। কিছু গবেষণায় এসব খাবারের সঙ্গে ত্বকের অকাল বার্ধক্য ও ব্রণের সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে খাদ্যাভ্যাস ও ব্রণের সম্পর্ক পুরোপুরি নিশ্চিত নয় এবং এ বিষয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অতিরিক্ত মানসিক চাপ ত্বককে আরো সংবেদনশীল করে তুলতে পারে এবং ব্রণসহ কিছু ত্বকের সমস্যার প্রবণতা বাড়াতে পারে। তাই ত্বকের যত্নের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, দ্রুত হাঁটা, ধ্যান বা যোগব্যায়ামের মতো অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। দৈনন্দিন কাজের চাপ কমানোর পাশাপাশি নিজের পছন্দের কাজ ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যও সময় রাখুন।
ত্বকের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
এসি/আপ্র/২৪/০৮/২০২৬