নতুন মৌসুমের শুরুটা দুর্দান্ত হলো বার্সেলোনার। এলচেকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে লিগ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে দারুণ এক শুভসূচনা করেছে হান্সি ফ্লিকের দল। এবারের লা লিগা শুরুর আট দিন পর নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমে প্রতিপক্ষের মাঠে রোববার পাঁচ শূন্য গোলের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে কাতালানরা। দলের হয়ে জোড়া গোল করেছেন রাফিনিয়া ও ফের্মিন লোপেস, আর বাকি একটি গোল এসেছে অভিষিক্ত কারিম আডেইয়েমির পা থেকে। এছাড়া বদলি হিসেবে নেমে জোড়া অ্যাসিস্ট করে দুর্দান্ত অভিষেক রাঙিয়েছেন আরেক নতুন মুখ অ্যান্থনি গর্ডন।
প্রথমার্ধে দুটি গোল আদায় করে নিলেও ঠিক দাপুটে ফুটবল খেলতে পারেনি বার্সেলোনা। তবে বিরতির পর নিজেদের চিরচেনা ও আক্রমণাত্মক রূপে ফিরে প্রতিপক্ষকে পাত্তাই দেয়নি তারা। পুরো ম্যাচের বায়ান্ন শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে গোলের জন্য এগারোটি শট নেয় বার্সা, যার মধ্যে সাতটিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে এলচের সাতটি শটের মাত্র দুটি ছিল অন টার্গেট। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেলেও হতাশ করেন তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল।
এরিক গার্সিয়ার লম্বা পাস ধরে বক্সে ঢুকে একা গোলরক্ষককে পেয়েও বল বাইরে মারেন তিনি। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। চতুর্দশ মিনিটে বক্সে নিজেই ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি আদায় করেন অধিনায়ক রাফিনিয়া এবং সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নবীন ফরোয়ার্ড আডেইয়েমি। ইয়ামালের বাড়ানো বল থেকে রাফিনিয়ার থ্রু পাস বক্সে পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ২৪ বছর বয়সী এই জার্মান উইঙ্গার। বার্সেলোনার জার্সিতে নিজের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই জালের দেখা পেলেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইয়ামাল আবারও সুযোগ হাতছাড়া করার পর ৬৫ মিনিটে তাকে ও আডেইয়েমিকে তুলে নিয়ে গর্ডন ও দানি ওলমোকে মাঠে নামান কোচ হান্সি ফ্লিক। আর এই পরিবর্তনেই ম্যাচের গতি পুরোপুরি বদলে যায়। গত এক শ বছরের মধ্যে মাত্র তৃতীয় ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক হওয়া গর্ডন নেমেই দুর্দান্ত দুটি অ্যাসিস্ট করেন। সাতষট্টি মিনিটে গর্ডনের পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন রাফিনিয়া।
এর ঠিক চার মিনিট পর বক্সের ভেতরে নিজেই শট নেওয়ার সুযোগ থাকলেও দারুণ নৈপুণ্যে পাশে থাকা লোপেসকে বল বাড়ান গর্ডন, যা থেকে অনায়াসে দলের চতুর্থ গোলটি করেন স্প্যানিশ উইঙ্গার ফের্মিন লোপেস।
এরপর ৭৯তম মিনিটে এলচের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সেই লোপেসই। এস্পার্তের পাস বক্সের বাইরে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোলটি আদায় করে নেন তিনি। এলচের বিপক্ষে এই জয়ের ফলে লা লিগায় দলটির বিপক্ষে টানা এগারোটি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখল বার্সেলোনা।
ডিসি/আপ্র/২৪/০৮/২০২৬