‘দুর্বল ফেডারেশনগুলোর চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে নির্বাচনী ইশতেহারে নিজেকে তুলে ধরেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আসন্ন পুনর্র্নিবাচনে জয়লাভ করতে নিজের এই পরিচিতিকেই মূল হাতিয়ার করছেন তিনি। একই দিনে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দের চেফেরিন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই নির্বাচনে তিনি নিজে লড়ছেন না। তবে তার বিশ্বাস, নির্বাচনে ঠিকই ইনফান্তিনোর বিপক্ষে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাঁড়াবেন।
ফিফা টুর্নামেন্টের স্বত্ব বা বাণিজ্যিক অধিকার বিক্রির যে পরিকল্পনা ইনফান্তিনো নিয়েছিলেন এবং পরে তা থেকে সরে আসেন, তা নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অস্থিরতা ও লড়াই এখনো তুঙ্গে। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা, এশিয়া (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান (কনক্যাকাফ) অঞ্চলের জোটগুলো ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে বেশ সোচ্চার অবস্থানে রয়েছে। উয়েফা প্রধান চেফেরিন একাধিকবার মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ করা উচিত।
‘দা রেস্ট ইজ পলিটিক্স: লিডিং’ পডকাস্টে আলাপকালে চেফেরিন জানান, সামনে দুটি সম্ভাব্য চিত্র দেখতে পাচ্ছেন তিনি। প্রথমত, ইনফান্তিনো নিজেই উপলব্ধি করতে পারেন যে তার রাজনৈতিক বা ফুটবল কমিউনিটির কোনো সমর্থন নেই। আর দ্বিতীয়ত, তিনি যদি শেষ পর্যন্ত মার্চ মাসের নির্বাচনে লড়েন, তবে তার বিপক্ষে শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকবে।
তবে এই মন্তব্যের বিষয়ে ফিফা বা ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইউরোপের ছোট দেশগুলোর শক্ত বিরোধিতাইউরোপিয়ান সুপার লিগের চেয়েও ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য ইনফান্তিনোর ওই বাণিজ্যিক প্রস্তাবকে অনেক বেশি বিপজ্জনক বলে আখ্যায়িত করেছেন চেফেরিন। ২০২১ সালে সফলভাবে সুপার লিগ ঠেকিয়ে দিয়েছিল উয়েফা। চেফেরিন দাবি করেন, এই প্রতিবাদ কেবল ইংল্যান্ড কিংবা জার্মানির মতো বড় দেশগুলো থেকেই আসছে না, বরং সান মারিনো, সাইপ্রাস বা লিখটেনস্টাইনের মতো ছোট দেশগুলোও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলে দিয়েছে যে তাদের ফুটবল বিক্রেয় নয়।
এদিকে ২০১৬ সাল থেকে ফিফার মসনদে থাকা ইনফান্তিনো পদত্যাগ করার কোনো লক্ষণ দেখাননি। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ২০৩১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতার মেয়াদ বাড়াতে তিনি অপেক্ষাকৃত কম সচ্ছল বা দরিদ্র ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জনপ্রিয়তার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করছেন। সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান ফুটবল ইউনিয়ন (সিএফইউ)-এর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ফিফা প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ইনফান্তিনো জানান, ধনী ও দরিদ্র ফেডারেশনগুলোর মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনাই ফিফার মূল কাজ। তবে দরিদ্র দেশগুলোর সাহায্যে ইউরোপ বাধা সৃষ্টি করছে—এমন অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন চেফেরিন। উল্টো তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইনফান্তিনো নিজেও একজন ইউরোপীয় এবং একসময় উয়েফার পূর্ণ সমর্থন নিয়েই তিনি এই পদে এসেছিলেন।
নর্ডিক দেশগুলোর অনাস্থা ও ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে অভ্যর্থনাএই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন এবং ফ্যারো আইল্যান্ডস—এই ছয়টি নর্ডিক দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন হেলসিঙ্কিতে এক বৈঠকে মিলিত হয়ে ফিফা সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক জোটগুলোর সমর্থন থাকলেও ইউরোপ ও অন্য কনফেডারেশনগুলোর এই বিরোধিতার মুখে সরাসরি সদস্য দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে জোর দিচ্ছেন ইনফান্তিনো।
এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টে গিয়ে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা তিনি পেয়েছেন, তাতে দারুণ সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি। যদিও কনক্যাকাফ সভাপতি চেয়েছিলেন ইনফান্তিনো যেন এই টুর্নামেন্ট থেকে দূরে থাকেন, তবে ফিফার উন্নয়ন তহবিলের সাফল্য তুলে ধরে নিজের নেতৃত্বকে টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বর্তমান ফিফা প্রধান।
ডিসি/আপ্র/২৪/০৮/২০২৬