চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে মামলাটির তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট এই রিমান্ড আবেদন করেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম এতথ্য নিশ্চিত করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন আগামী বৃহস্পতিবার।
তিন কারণে খলনায়ক ডনের রিমান্ড আবেদন :
প্রথমত, মামলার ঘটনা আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। ভিকটিম জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ভিকটিমের মা মামলার ঘটনার পর থেকে অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপর রয়েছেন। এমতাবস্থায় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের ডনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, ডন অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির লোক। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার ঘটনায় জড়িত অপরাপর সহযোগী আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ও নিবিড়ভাবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, ডনের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৌশলে, কী কারণে ও কার ইন্ধনে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছিলন এ সংক্রান্তে তথ্য উদঘাটনসহ মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ৯ অগাস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ অগাস্ট আসামির জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করে আদালত।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরে এ নিয়ে হত্যা মামলা হয়। মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
এসি/আপ্র/২৪/০৮/২০২৬