কোনো দাম্পত্য সম্পর্কই সব সময় স্বপ্নের মতো হয় না। মতের অমিল, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা মাঝেমধ্যে ঝগড়া হওয়া স্বাভাবিক। তবে একই ধরনের নেতিবাচক আচরণ যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এবং এতে একজন সঙ্গী নিয়মিত মানসিক চাপে থাকেন, নিজেকে ছোট মনে করেন কিংবা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হারাতে থাকেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অনেকেই এমন আচরণকে ‘টক্সিক’ বা বিষাক্ত সম্পর্কের লক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে এক-দুইবার ঝগড়া, রাগ বা মতবিরোধের ভিত্তিতে কাউকে বিষাক্ত বলা ঠিক নয়। বরং দীর্ঘদিনের আচরণের ধরন এবং তা সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিটি সমস্যার জন্য আপনাকেই দায়ী করা
দাম্পত্যে কোনো সমস্যা তৈরি হলেই যদি শেষ পর্যন্ত আপনাকেই ক্ষমা চাইতে হয়, তাহলে বিষয়টি খেয়াল করা প্রয়োজন। সঙ্গী যদি প্রায় প্রতিটি মতবিরোধের দায় আপনার ওপর চাপিয়ে দেন এবং নিজের ভুল স্বীকার করতে অনিচ্ছুক থাকেন, তাহলে ধীরে ধীরে আপনার মধ্যে আত্মসন্দেহ তৈরি হতে পারে।
বারবার নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করা কিংবা প্রতিটি সমস্যার জন্য নিজেকেই দায়ী মনে করা সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়। ভুল হলে দুজনেরই তা স্বীকার করা এবং সমাধানের চেষ্টা থাকা প্রয়োজন।
মজা করতে গিয়ে আপনাকে ছোট করা
সঙ্গীকে নিয়ে হালকা মজা দাম্পত্যের স্বাভাবিক অংশ হতে পারে। কিন্তু সেই মজা যদি নিয়মিত আপনার চেহারা, চাকরি, আয়, বন্ধু, বুদ্ধি কিংবা ব্যক্তিত্বকে আঘাত করে, তাহলে সেটিকে নিছক রসিকতা বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
একই ধরনের অপমানজনক মন্তব্য বারবার শুনে যদি আত্মবিশ্বাস কমে যায় কিংবা মনে হয় সঙ্গীর কাছে আপনি যথেষ্ট ভালো নন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা জরুরি।
অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ করা
বিয়ে মানেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলা নয়। আপনি কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন বা কখন বাড়ি ফিরবেন—এসব নিয়ে সঙ্গীর স্বাভাবিক উদ্বেগ থাকতেই পারে। কিন্তু সেই উদ্বেগ যদি নিয়মিত নজরদারি, বাধা কিংবা নির্দেশে পরিণত হয়, তাহলে তা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ হতে পারে।
বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করলে রাগ করা, বারবার ফোন করে অবস্থান জানতে চাওয়া, কার সঙ্গে মেলামেশা করা যাবে তা ঠিক করে দেওয়া কিংবা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে সব সময় হস্তক্ষেপ করা সম্পর্কের সুস্থ স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
আপনার অনুভূতিকে গুরুত্ব না দেওয়া
আপনি কোনো কারণে কষ্ট পেয়েছেন—এ কথা জানানোর পরও যদি সঙ্গী নিয়মিত তা তুচ্ছ করেন বা এড়িয়ে যান, তাহলে একসময় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেই অনীহা তৈরি হতে পারে।
‘এত কিছু নিয়ে কষ্ট পাওয়ার কী আছে’—এ ধরনের প্রতিক্রিয়া বারবার পেতে পেতে অনেকেই চুপ করে থাকাকে সহজ মনে করেন। অথচ সুস্থ সম্পর্কে দুজনের অনুভূতিকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মতের অমিল থাকলেও সঙ্গীর অনুভূতির প্রতি সম্মান থাকা জরুরি।
সঙ্গীর রাগ এড়াতে নিজেকে বদলে ফেলা
কিছু বলার আগে যদি বারবার ভাবতে হয় কোন কথায় ঝগড়া হতে পারে বা কোন বিষয়ে সঙ্গীর মেজাজ খারাপ হবে, তাহলে সম্পর্কের ধরন নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।
এমনকি সম্ভাব্য ঝামেলা এড়াতে নিজের পরিকল্পনা, পছন্দ কিংবা সিদ্ধান্ত নিয়মিত পরিবর্তন করতে হলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। দাম্পত্যে মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু একজনের রাগের ভয়ে অন্যজনকে সব সময় নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সেটি সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়।
তবে এসব আচরণের এক-দুটি ঘটনা দেখেই কাউকে ‘টক্সিক’ বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। আচরণটি কতটা নিয়মিত, এর ফলে সম্পর্ক ও ব্যক্তির ওপর কী প্রভাব পড়ছে এবং দুজন মিলে তা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা জরুরি।
সম্পর্কের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নেওয়াও সহায়ক হতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, সাইকোলজি টুডে
এসি/আপ্র/২৪/০৮/২০২৬