ইউরোপ ও আমেরিকার মতো উন্নত দেশে যাওয়ার পর নতুন অভিবাসীদের অনেকে যে ভুলটি করেন, তা হলো সময়মতো আইনি পরামর্শ না নেওয়া। নতুন পরিবেশে কাজ খোঁজা, আয়-রোজগার ও ঋণ পরিশোধের চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়ায় অনেকেই নিজেদের অভিবাসনসংক্রান্ত আইনি অবস্থান নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দেন না।
ফলে মাসের পর মাস, এমনকি বছরও কেটে যায়। অথচ যে ধরনের ভিসাতেই কোনো ব্যক্তি বিদেশে যান না কেন, নিজের ভিসার শর্ত, বৈধ অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ আবেদনের সুযোগ সম্পর্কে শুরুতেই সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও নিয়ম ভালোভাবে জানা জরুরি।
বিশেষ করে আশ্রয়, স্থায়ী বসবাস বা অভিবাসনসংক্রান্ত কোনো আবেদন করার সুযোগ থাকলে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট দেশের অভিজ্ঞ ও অনুমোদিত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, নির্দিষ্ট সময়সীমা ও আবেদনের শর্ত দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে।
আইনি প্রক্রিয়ায় অযথা বিলম্ব ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে। সময়মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আবেদন না থাকলে বৈধ পরিচয়পত্র, ব্যাংকিং সুবিধা কিংবা কাজের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় পর কোনো আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ বা আদালত আগের পরিস্থিতি ও দেরির কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে পারে।
বিশেষ করে কেউ যদি নিজ দেশে গুরুতর সমস্যার কারণে আশ্রয় চাইতে চান, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনে নির্ধারিত সময়সীমা ও শর্ত মেনে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ। দেরির যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করতে না পারলে আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই অনুমান বা অন্যের পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে শুরুতেই পেশাদার আইনি পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
অন্যদিকে, উন্নত দেশগুলোতেও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ শ্রমবাজারে পরিবর্তন আনছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ায় কিছু প্রচলিত কাজের চাহিদা ভবিষ্যতে কমতে পারে। ফলে নতুন অভিবাসীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রস্তুতিও জরুরি।
প্রবাসজীবনে আইনি নিরাপত্তার পাশাপাশি আর্থিক প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামলাতে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং আয়ের একটি অংশ সঞ্চয় করা প্রয়োজন। এতে চাকরি হারানো বা অন্য কোনো সংকট দেখা দিলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হয়।
তবে কোনো দেশে প্রবেশ করলেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করা বা আইনি বৈধতা অর্জন করা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ভিসার ধরন, দেশের আইন, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং আবেদনের যোগ্যতার ওপর বিষয়গুলো নির্ভর করে। তাই ইউরোপ বা আমেরিকায় যাওয়ার পর নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী শুরুতেই সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন আইনজীবী বা অনুমোদিত পরামর্শদাতার কাছ থেকে সঠিক তথ্য নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
এসি/আপ্র/২৪/০৮/২০২৬