ইলিশ বাঙালির প্রিয় মাছ। ভাজা ইলিশ, সর্ষে ইলিশ কিংবা ইলিশের ঝোল—যেভাবেই রান্না করা হোক, পাতে ইলিশ থাকলে বাড়তি আনন্দ তৈরি হয়। তবে ইলিশে তুলনামূলক বেশি চর্বি থাকায় কোলেস্টেরল বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকেই মাছটি খেতে দ্বিধায় থাকেন। প্রশ্ন হলো, কোলেস্টেরল বেশি থাকলে কি ইলিশ একেবারেই বাদ দিতে হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশে চর্বি বেশি হলেও এর সবটাই ক্ষতিকর নয়। পরিমাণ ও রান্নার ধরন ঠিক রাখলে ইলিশ সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে।
ইলিশে রয়েছে যেসব পুষ্টি
ইলিশে উচ্চমানের প্রোটিন রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম ইলিশে আনুমানিক ২০ থেকে ২২ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে। পেশি গঠন ও শরীরের বিভিন্ন কোষের প্রয়োজন মেটাতে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া ইলিশে অসম্পৃক্ত চর্বি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। ওমেগা-৩ হৃদ্স্বাস্থ্য ও শরীরের স্বাভাবিক বিভিন্ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাছটিতে ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদানও রয়েছে।
ইলিশে তেল বেশি হলেও কোলেস্টেরল বেশি থাকলেই মাছটি সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে—এমন নয়। বরং কতটা খাচ্ছেন এবং কীভাবে রান্না করছেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত তেলে ভাজা ইলিশের পরিবর্তে কম তেলে ঝোল বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে রান্না করা ভালো। একই সঙ্গে খাবারে অতিরিক্ত তেল, চর্বিযুক্ত মাংস, ভাজাপোড়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর চর্বির পরিমাণ কমানো জরুরি।
যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদ্রোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে, তাদের ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।
প্রতিদিন ইলিশ খাওয়া কি ঠিক?
ইলিশ পুষ্টিকর হলেও প্রতিদিন খাওয়ার প্রয়োজন নেই। খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের মাছের পাশাপাশি ডাল, ডিম, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মাঝেমধ্যে পরিমিত পরিমাণে ইলিশ খাওয়া সাধারণত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে কতটা খাবেন, তা বয়স, শারীরিক অবস্থা, মোট খাদ্যাভ্যাস ও ব্যক্তিগত পুষ্টির চাহিদার ওপর নির্ভর করে।
গর্ভবতী নারীদের সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে প্রজাতিভেদে পারদের মাত্রা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত পারদ ভ্রূণের বিকাশে ক্ষতিকর হতে পারে। তাই গর্ভবতী নারীদের মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য ও পরিমাণের দিকে নজর রাখা উচিত। ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
রান্নার ধরনই গুরুত্বপূর্ণ
ইলিশ খেতে চাইলে অতিরিক্ত তেল ও লবণ ব্যবহার না করে স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করা ভালো। বিশেষ করে কোলেস্টেরল বা হৃদ্রোগের সমস্যা থাকলে ভাজা ইলিশের পরিবর্তে কম তেলে রান্না করা ইলিশ বেছে নেওয়া যেতে পারে।
অর্থাৎ, কোলেস্টেরল বেশি থাকলেই ইলিশ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমিত পরিমাণে, স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করে এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্য বজায় রেখে খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, হেলথ সেন্টার ও হিন্দুস্তান টাইমস
এসি/আপ্র/২২/০৮/২০২৬