বাঙালির খাবারের তালিকায় ভাত অন্যতম প্রধান খাবার। দুপুরে গরম ভাতের সঙ্গে ডাল, তরকারি কিংবা মাছ—এ যেন প্রতিদিনের চেনা খাবার। আর ভাত রান্নার আগে চাল ধুয়ে নেওয়া বাঙালি রান্নাঘরের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তবে শুধু ময়লা পরিষ্কারের জন্য নয়, চাল ধোয়ার পেছনে রয়েছে আরও কিছু কারণ।
ধুলা-ময়লা পরিষ্কার হয়
ধান থেকে চাল তৈরি, পরিবহন ও সংরক্ষণের বিভিন্ন পর্যায়ে চালের সঙ্গে ধুলা, তুষ ও অন্যান্য সূক্ষ্ম কণা মিশে যেতে পারে। রান্নার আগে পরিষ্কার পানিতে চাল ধুয়ে নিলে এসব কণা অনেকটাই দূর হয়। বিশেষ করে খোলা পাত্রে সংরক্ষণ করা চাল ধুয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষিকাজে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক উপাদান বা পরিবেশগত দূষণের কারণে চালের ওপর ভারী ধাতুর উপস্থিতিও থাকতে পারে। তবে শুধু চাল ধুয়ে এসব দূষক পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়।
অতিরিক্ত স্টার্চ কমে
চালের ওপর থাকা মুক্ত স্টার্চ রান্নার সময় পানিতে মিশে ভাতকে তুলনামূলক বেশি আঠালো করে তুলতে পারে। চাল কয়েকবার ধুয়ে নিলে এই অতিরিক্ত স্টার্চের কিছু অংশ সরে যায়। ফলে ভাত তুলনামূলক ঝরঝরে হতে পারে।
আর্সেনিকের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি
চাল অন্যান্য অনেক শস্যের তুলনায় পরিবেশ থেকে অজৈব আর্সেনিক বেশি শোষণ করতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাত্রায় অজৈব আর্সেনিকের সংস্পর্শ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে পরিচিত।
তবে শুধু চাল ধুয়ে আর্সেনিক উল্লেখযোগ্য মাত্রায় দূর করা যায়—এমন নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বেশি পানি দিয়ে চাল রান্না করে পরে অতিরিক্ত পানি ফেলে দিলে নির্দিষ্ট ধরনের চালে অজৈব আর্সেনিকের পরিমাণ আরও কার্যকরভাবে কমানো সম্ভব।
মাইক্রোপ্লাস্টিকও কিছুটা কমতে পারে
প্লাস্টিকের প্যাকেজিং ও পরিবহনের কারণে খাদ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রান্নার আগে চাল ধুয়ে নিলে নির্দিষ্ট ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে।
যেভাবে চাল ধোয়া ভালো
চাল পরিষ্কার পাত্রে নিয়ে নিরাপদ পানিতে দুই থেকে তিনবার হালকাভাবে ধুয়ে নেওয়া যেতে পারে। খুব জোরে ঘষে ধোয়ার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত ধোয়া বা পালিশের কারণে পানিতে দ্রবণীয় কিছু পুষ্টি উপাদান, বিশেষ করে বি-ভিটামিনের ক্ষতি হতে পারে।
চাল ভিজিয়ে রাখার প্রয়োজন রান্নার ধরন ও চালের ওপর নির্ভর করে। ভিজিয়ে রাখলে রান্নার সময় কমতে পারে এবং চালের দানা তুলনামূলক ভালোভাবে সিদ্ধ হতে পারে। তবে ভিজিয়ে রাখলেই আর্সেনিক পুরোপুরি দূর হবে—এমন দাবি ঠিক নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, চাল ধোয়া একাই খাদ্যনিরাপত্তার সব সমস্যা সমাধান করে না। নিয়মিত ভাত খেলে খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিমসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার রাখলে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
এসি/আপ্র/২২/০৮/২০২৬