উচ্চ কোলেস্টেরলকে নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি বলা হয়। কারণ শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলেও সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা দেয় না। অতিরিক্ত এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ধমনিতে চর্বি জমাতে ভূমিকা রাখে, যা হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বংশগত বৈশিষ্ট্য, বয়স ও কিছু শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি প্রতিদিনের জীবনযাপনের অভ্যাসও কোলেস্টেরলের মাত্রায় প্রভাব ফেলে। এমন কিছু অভ্যাস রয়েছে, যা এক-দুবার করলে ক্ষতিকর মনে না হলেও নিয়মিত চালিয়ে গেলে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সকালে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার
মাখনযুক্ত টোস্ট, পরোটা, ভাজাপোড়া বা প্রক্রিয়াজাত মাংস দিয়ে নিয়মিত নাশতা করলে শরীরে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। মাখন, ঘি, চর্বিযুক্ত মাংস, সসেজ, পনির, ক্রিম, কেক ও পেস্ট্রিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে।
খাদ্যতালিকায় এ ধরনের চর্বি সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোট দৈনিক ক্যালরির ১০ শতাংশের বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট থেকে না নেওয়াই ভালো।
স্বাস্থ্যকর খাবারও অতিরিক্ত খাওয়া
বাদাম, বীজ ও কিছু তেল স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। কিন্তু পুষ্টিকর খাবার বলেই তা ইচ্ছেমতো বেশি খাওয়া ঠিক নয়। কারণ এগুলোতেও ক্যালরি থাকে।
আর স্বাস্থ্যকর নাশতার পরিবর্তে বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি, ভাজা নোনতা খাবার ও প্যাকেটজাত মুখরোচক খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস আরো ক্ষতিকর হতে পারে। এসব খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি থাকতে পারে।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের খাদ্যতালিকাগত নির্দেশিকায় কম প্রক্রিয়াজাত খাবার, শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য, শিমজাতীয় খাবার, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎসকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার সীমিত রাখতে বলা হয়েছে।
দিনের বেশির ভাগ সময় বসে থাকা
আধা ঘণ্টা ব্যায়াম করলেও দিনের বাকি সময় যদি ডেস্ক, গাড়ি বা সোফায় বসে কাটে, তাহলে সামগ্রিকভাবে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা থেকে যেতে পারে। নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে এবং এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরল বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা সিঁড়ি ব্যবহার-এসবও শারীরিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর সহজ উপায়। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার অথবা ৭৫ মিনিট বেশি তীব্রতার শারীরিক কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ানোও উপকারী।
নিয়মিত চিনিযুক্ত পানীয় পান
সফট ড্রিংকস, মিষ্টি ফলের পানীয়, এনার্জি ড্রিংকস কিংবা অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা-কফি নিয়মিত পান করলে খাদ্যতালিকায় বাড়তি চিনি যুক্ত হয়। এসব পানীয় পেটও খুব বেশি ভরা রাখে না।
চিনি ও খাদ্যতালিকাগত কোলেস্টেরল এক বিষয় নয়। তবে অতিরিক্ত চিনি বাড়তি ক্যালরি গ্রহণ ও ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। সামগ্রিকভাবে নিম্নমানের খাদ্যাভ্যাস হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ধূমপান ও তামাকের সংস্পর্শ
ধূমপান হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং কোলেস্টেরলের ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। এটি রক্তনালির ক্ষতি করে এবং ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।
তাই ধূমপান বা তামাকের ব্যবহার থাকলে তা ছেড়ে দেওয়া হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে শুধু অভ্যাস পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়-ব্যক্তিভেদে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কর্মকাণ্ড, ওজন, বংশগত ঝুঁকি ও চিকিৎসকের পরামর্শও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সানা/আপ্র/১৭/৮/২০২৬