চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ২৫৮ জন নারী ও ৮৩ জন কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির হিসাবে, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন মোট ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও কন্যাশিশু। একই সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৯১ জন নারী ও কন্যাশিশু।
সোমবার (১৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
সংগঠনটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, দেশের ১৪টি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে তারা চলতি বছরের প্রথম সাত মাসের এই পরিসংখ্যান সংকলন করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে হত্যার শিকার ৩৪১ নারী ও কন্যাশিশুর মধ্যে ৬৩টি ঘটনা ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
ফওজিয়া মোসলেম বলেন, অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে জমিজমা, মামলা-মোকদ্দমা ও পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে। দেশের সব সংবাদমাধ্যমের তথ্য পাওয়া গেলে নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি বলেন, নারীসহ সমাজের সব মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নারীদের ভয় দেখিয়ে ঘরে ফেরানো যাবে না। নারী তাঁর অধিকার আদায়ে সংগঠিত থাকবে এবং নারী হত্যা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এ সময় ২৯১ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে নারী ও শিশুরা দেশের কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতার প্রবণতা কমানো যাচ্ছে না।
প্রতিটি নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান মালেকা বানু। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান সংগঠনটির নেতারা।
মানববন্ধনে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/১৭/৮/২০২৬