ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠ মন্দিরের কাছে একটি পাঁচতলা হোটেলে ভয়াবহ আগুনে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারাপীঠের ওই হোটেলের নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন হোটেলের অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তার আগেই আগুনে দগ্ধ হয়ে এবং ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়। হোটেলটির নিচতলার বড় একটি অংশ আগুনে পুড়ে গেছে।
আহতদের উদ্ধার করে রামপুরহাট সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেন, রাতে পাহারার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা আগুন লাগার পরপরই অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করেন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের তার বিচ্ছিন্ন করেন। কিন্তু এর মধ্যেই আগুন হোটেলের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত ফাইবারের আবরণে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, আগুনের ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে যায়। আতঙ্কিত অতিথিরা কক্ষ থেকে বেরিয়ে নিচে নামতে গিয়ে আগুনের মধ্যে পড়ে যান। হোটেলের পেছনের দিকে বের হওয়ার একটি দরজা থাকলেও অন্ধকারের মধ্যে অনেকে সেটি খুঁজে পাননি। ফলে তাঁরা রিসেপশনের সামনের পথ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে আগুনে দগ্ধ হন।
হোটেলের ওপরের তলাগুলোতেও অনেকে আটকা পড়েছিলেন। তবে আগুন দোতলার ওপরে ছড়িয়ে না পড়ায় তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান।
হোটেলটির অধিকাংশ অতিথিই ছিলেন তারাপীঠ মন্দিরে পূজা দিতে আসা পুণ্যার্থী। নিহতদের নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দমকল বিভাগের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
সানা/আপ্র/১৭/৮/২০২৬