গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

মেনু

এক যুগেও কার্যকর হয়নি নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডার মামলার রায়

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১০ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০০:০৬ এএম ২০২৬
এক যুগেও কার্যকর হয়নি নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডার মামলার রায়
ছবি

নিহত সাত জন -ফাইল ছবি

দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত জনকে হত্যা মামলার রায় এখনও কার্যকর হয়নি। ২০১৪ সালের এই দিনে (২৭ এপ্রিল) সাত জনকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। পরে তাদের মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে। এই ঘটনায় নিম্ন আদালতে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডসহ নয় জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। এবং পরে উচ্চ আদালতে ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত বছর ধরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় আটকে আছে। এ জন্য মামলার বিচারকাজ বিলম্বিত হওয়ার জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করছেন নিহতের স্বজন ও আইনজীবীরা।

ঘটনাপ্রবাহ
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিমসহ সাত জন অপহৃত হন।

অপহরণের তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল নজরুল ইসলামসহ ৬ জন এবং ১ মে সিরাজুল ইসলাম লিটনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদীবন্দরের শান্তিরচর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় লাশের হাত-পা ছিল বাঁধা এবং পেট কেটে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যেকটি লাশের সঙ্গে ইটবোঝাই দুটি করে বস্তা বাঁধা ছিল।  

এই ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাই বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন।

নিম্ন ও উচ্চ আদালতে মামলার রায়
সাত খুনের মামলায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর চাকরিচ্যুত সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম মাসুদ রানাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদানের আদেশ দেন।

পরে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। ২০১৮ সালে ২২ আগস্ট ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখে অন্যান্য আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন উচ্চ আদালত। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সাড়ে সাত বছর ধরে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

স্বজনদের আক্ষেপ
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়ায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করেন নিহতের স্বজনরা। নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের ছোট ভাই আব্দুস সালাম বলেন, ‘১২ বছর অতিবাহিত হলেও সাত খুনের বিচার পাইনি। মূলত এই মামলার আসামিদের ও তার লোকজনের সঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সুসম্পর্ক  ছিল। যে কারণে মামলার রায় কার্যকর করতে বিলম্বিত হচ্ছে। এই মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেন ছিল শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ লোক। আর নূর হোসেন সব সময় শামীম ওসমানের হুকুম তামিল করতো।’

নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, ‘মামলার আসামিদের লোকজনেরা আমাদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। এ ছাড়া মামলা থেকে বাদ পড়ে যাওয়া সব আসামি সব সময় আমাদের হুমকি দিয়ে আসছে। ফলে আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি।’

নিহত তাজুল ইসলামের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম রাজু বলেন, ‘আসামিরা কেউ আওয়ামী লীগের নেতা, কেউ আবার আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পদে থাকা কর্মকর্তার আত্মীয় হওয়ায় রায় কার্যকর করতে বিলম্ব হচ্ছে। এ কারণে মামলার এক যুগ অতিবাহিত হলেও বিচার পাইনি।’

আইনজীবীদের বক্তব্য
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘র‌্যাবের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতৃবৃন্দের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় সাত জন ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে হত্যা করে গুম করা হয়। সেই মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালতে রায় হয়েছে। তবে অ্যাপিলেট ডিভিশনে মামলাটি আটকে আছে। বিগত সময়ে শেখ হাসিনা সরকার এই রায়কে বিলম্বিত করতে নানা চেষ্টা করেছে।’

মামলার রায় কার্যকর করতে বিলম্ব হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই মামলার প্রধান আসামি কর্নেল তারেক সাঈদ সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাই। অন্য আসামিরাও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের আত্মীয়-স্বজন। যে কারণে মামলাটি অ্যাপিলেট ডিভিশনে আটকে রয়েছে। তা ছাড়া ওই সময় যদি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হতো তাহলে সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও র‌্যাবের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউলের নাম উঠে আসতো। তারাও এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তাদের তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রক্ষা করেছে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর রাজিব মণ্ডল বলেন, ‘সাত খুনের ঘটনায় নিম্ন ও উচ্চ আদালতে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর ধরে মামলাটি অ্যাপিলেট ডিভিশনে আটকে রয়েছে। আশা করি, খুব শিগগিরিই রায় কার্যকর হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাত খুনের ঘটনা ঘটে। মামলার আসামিদের অনেকের আত্মীয়-স্বজন ওই সরকারের বিভিন্ন পদে ছিলেন। যে কারণে মামলার রায় কার্যকর হয়নি। তবে এখন সরকার বদল হয়েছে, ফলে এই সরকারের অধীনে খুব শিগগিরই রায় কার্যকর হবে।’
সানা/আপ্র/২৭/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

সাবেক রাষ্ট্রপতি হামিদ-সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
২৬ জুলাই ২০২৬

সাবেক রাষ্ট্রপতি হামিদ-সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও মো. সাহাব...

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে: আইনমন্ত্রী
২৬ জুলাই ২০২৬

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে: আইনমন্ত্র...

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকের চেয়ারম্য...

এবার কাউন্সিলর একরাম হত্যা মামলায় আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা
২৬ জুলাই ২০২৬

এবার কাউন্সিলর একরাম হত্যা মামলায় আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা

এবার কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি...

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে: আইনমন্ত্রী
২৫ জুলাই ২০২৬

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে: আইনমন্ত্রী

দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

সাহাবুদ্দিন বর্তমান সরকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন

গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে