বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী অন্তর্ভুক্তির লিখিত পরীক্ষার প্রথম রিভিউয়ের ফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাই কোর্ট। একই সঙ্গে প্রথম রিভিউয়ে উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে বার কাউন্সিলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাই কোর্ট বেঞ্চ এ-সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ রায় দেন।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী বদরুদ্দোজা বাদল, ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী ও এম আশরাফুল ইসলাম।
রায়ের পর আইনজীবী বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটি তিন নম্বর গ্রেস দিয়ে রিট আবেদনকারীসহ আরো অনেক পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো আবেদন ছাড়াই দ্বিতীয় রিভিউয়ের নামে স্বপ্রণোদিত হয়ে ওই ফল বাতিল করে তাদের অনুত্তীর্ণ দেখানো হয়।
তার ভাষ্য, এ ধরনের সিদ্ধান্তের কোনো আইনগত বা বিধিগত ভিত্তি নেই। সে কারণেই হাই কোর্ট বার কাউন্সিলের ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বার কাউন্সিল বিষয়টি আর দীর্ঘায়িত না করে কিংবা আপিল বিভাগে না গিয়ে দ্রুত মৌখিক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করবে এবং উত্তীর্ণদের আইন পেশায় প্রবেশের সুযোগ করে দেবে।
অপর আইনজীবী ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী বলেন, আদালত অভিমত দিয়েছেন যে কোনো কর্তৃপক্ষকে অবাধ ক্ষমতা দেওয়া হলেও যুক্তিসঙ্গতভাবে নেওয়া সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে বাইরের কোনো চাপে বাতিল করা যায় না।
তিনি জানান, রিভিউয়ের মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৯১৪ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, যার মধ্যে ৬৪০ জন ছিলেন রিট আবেদনকারী। তাদের কেউই খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেননি। তা সত্ত্বেও নতুন করে খাতা মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের অনুত্তীর্ণ ঘোষণা করা অযৌক্তিক হয়েছে বলে আদালত মনে করেছেন।
রায়ের নির্দেশনা প্রসঙ্গে ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী বলেন, আদালত প্রথম রিভিউয়ের ফলকে বৈধ এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে প্রথম রিভিউয়ে উত্তীর্ণ ১ হাজার ৯১৪ জনকে যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সানা/আপ্র/১০/৬/২০২৬