গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

তোমাদের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, নতুন কুঁড়ির মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:০০ পিএম, ২৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২১:০৫ এএম ২০২৬
তোমাদের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, নতুন কুঁড়ির মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
ছবি

সোমবার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্বের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ছবি সংগৃহীত

“নিজেকে কখনো ছোট ভাববে না, নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলো। তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। তোমাদের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।”

দেশের শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে এমন আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন প্রজন্ম নিজেদের সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে পারলে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্বের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে বিজয়ী ক্ষুদে ক্রীড়াবিদদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে তিনি মাঠের পাশে বসে বালিকাদের ফুটবল ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন।

বালিকাদের ফাইনালে রংপুর অঞ্চল দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে রাজশাহী অঞ্চলকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অন্যদিকে বালকদের ফুটবল ফাইনালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ময়মনসিংহ অঞ্চলকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে সিলেট অঞ্চল।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তোমাদের মধ্যে থেকেই আগামী দিনে দেশের একজন ভালো চিকিৎসক বের হবে, একজন ভালো স্থপতি বের হবে, একজন ভালো প্রকৌশলী বের হবে। তোমাদের মধ্য থেকেই দেশের ভালো ক্রিকেটার, সাঁতারু, টেনিস খেলোয়াড়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ মানুষ তৈরি হবে।”

তিনি বলেন, “আজকের এই প্রতিযোগিতা শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি উদ্যোগ। তোমাদের বিকাশের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।”

প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের প্রতি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আজকের এই প্রতিযোগিতাই হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।”

তিনি বলেন, খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণ, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি হয়।

শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুলগুলোকে আরো সুন্দর ও কার্যকর করে গড়ে তোলার কাজ চলছে। তবে দেশ গড়ার এই কাজে সরকারের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজ তখনই সফল হবে, যখন তোমরা যারা আজ এখানে বসে আছো, যারা খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিয়েছো, তোমরা নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।”

এরপর গ্যালারিতে থাকা হাজারো শিশু-কিশোরের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, “বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে কে কে কাজ করবে? তোমরা কি আমার সঙ্গে আছো?”

এ সময় পুরো গ্যালারিজুড়ে থাকা কিশোর-কিশোরীরা হাত তুলে সম্মতি জানালে প্রধানমন্ত্রী তাদের ধন্যবাদ জানান।

পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোরদের শুধু পড়াশোনা ও খেলাধুলায় নয়, দেশ ও পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “এই দেশ আমাদের সবার। দেশের আলো, বাতাস ও পরিবেশ আমরা সবাই মিলে রক্ষা করব। সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠলে তোমরা ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারবে এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারবে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের আশপাশে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, নদী-নালা ও পুকুর পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি নদী, পুকুর বা জলাশয়ে ময়লা ফেলে, তাহলে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে সেই ময়লা পরিষ্কার করার চেষ্টা করতে হবে, যাতে প্রকৃতি ও পরিবেশ সুস্থ থাকে।

তিনি প্রতি বছর বাড়ি ও বিদ্যালয়ের আশপাশে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাছ আমাদের জীবন ও পরিবেশ রক্ষার অন্যতম অবলম্বন।

প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান: শিশু-কিশোরদের পশু-পাখির প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণী দেশের সম্পদ।

তিনি বলেন, “আমাদের আশপাশে থাকা কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগলসহ সব প্রাণীর যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা আমাদের মানবিক করে তোলে।”

এ সময় উপস্থিত শিশু-কিশোররা সমস্বরে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দেয়।

এক লাখ ৭০ হাজার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণ: নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব ক্ষুদে খেলোয়াড়কে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সন্তানদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আঞ্চলিক পর্বে সারাদেশ থেকে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ আটটি ক্রীড়া বিষয়ে অংশ নেয়। পরে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলো রাজধানীর বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়।
সানা/আপ্র/২৭/৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

তারেক-তাকাইচি শীর্ষ বৈঠক আজ, গুরুত্ব পাবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা
২৭ অক্টোবর ২০২৬

তারেক-তাকাইচি শীর্ষ বৈঠক আজ, গুরুত্ব পাবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা...

আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ দমন সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে এনএসআই প্রধান
২৭ অক্টোবর ২০২৬

আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ দমন সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে এনএসআই প্রধান

সন্ত্রাসবাদ দমনবিষয়ক বহুপাক্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে গেছেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএস...

মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁড়ে দাফনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি হবে: মন্ত্রী
২৭ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁড়ে দাফনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি হবে: মন্ত্রী

পিরোজপুরে স্ত্রী ও মেয়ে কবর খুঁড়ে এক মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফনের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে বলে জা...

সাসাকাওয়ার নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী, আলোচনায় টিকা কারখানা স্থাপন
২৭ অক্টোবর ২০২৬

সাসাকাওয়ার নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী, আলোচনায় টিকা কারখানা স্থাপন

জাপান সফরের প্রথম দিনে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাস...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে