গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

তোমাদের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, নতুন কুঁড়ির মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:০০ পিএম, ২৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৫৩ এএম ২০২৬
তোমাদের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, নতুন কুঁড়ির মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
ছবি

সোমবার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্বের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ছবি সংগৃহীত

“নিজেকে কখনো ছোট ভাববে না, নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলো। তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। তোমাদের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।”

দেশের শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে এমন আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন প্রজন্ম নিজেদের সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে পারলে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্বের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে বিজয়ী ক্ষুদে ক্রীড়াবিদদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে তিনি মাঠের পাশে বসে বালিকাদের ফুটবল ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন।

বালিকাদের ফাইনালে রংপুর অঞ্চল দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে রাজশাহী অঞ্চলকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অন্যদিকে বালকদের ফুটবল ফাইনালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ময়মনসিংহ অঞ্চলকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে সিলেট অঞ্চল।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তোমাদের মধ্যে থেকেই আগামী দিনে দেশের একজন ভালো চিকিৎসক বের হবে, একজন ভালো স্থপতি বের হবে, একজন ভালো প্রকৌশলী বের হবে। তোমাদের মধ্য থেকেই দেশের ভালো ক্রিকেটার, সাঁতারু, টেনিস খেলোয়াড়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ মানুষ তৈরি হবে।”

তিনি বলেন, “আজকের এই প্রতিযোগিতা শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি উদ্যোগ। তোমাদের বিকাশের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।”

প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের প্রতি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আজকের এই প্রতিযোগিতাই হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।”

তিনি বলেন, খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণ, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি হয়।

শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুলগুলোকে আরো সুন্দর ও কার্যকর করে গড়ে তোলার কাজ চলছে। তবে দেশ গড়ার এই কাজে সরকারের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজ তখনই সফল হবে, যখন তোমরা যারা আজ এখানে বসে আছো, যারা খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিয়েছো, তোমরা নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।”

এরপর গ্যালারিতে থাকা হাজারো শিশু-কিশোরের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, “বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে কে কে কাজ করবে? তোমরা কি আমার সঙ্গে আছো?”

এ সময় পুরো গ্যালারিজুড়ে থাকা কিশোর-কিশোরীরা হাত তুলে সম্মতি জানালে প্রধানমন্ত্রী তাদের ধন্যবাদ জানান।

পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোরদের শুধু পড়াশোনা ও খেলাধুলায় নয়, দেশ ও পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “এই দেশ আমাদের সবার। দেশের আলো, বাতাস ও পরিবেশ আমরা সবাই মিলে রক্ষা করব। সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠলে তোমরা ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারবে এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারবে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের আশপাশে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, নদী-নালা ও পুকুর পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি নদী, পুকুর বা জলাশয়ে ময়লা ফেলে, তাহলে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে সেই ময়লা পরিষ্কার করার চেষ্টা করতে হবে, যাতে প্রকৃতি ও পরিবেশ সুস্থ থাকে।

তিনি প্রতি বছর বাড়ি ও বিদ্যালয়ের আশপাশে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাছ আমাদের জীবন ও পরিবেশ রক্ষার অন্যতম অবলম্বন।

প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান: শিশু-কিশোরদের পশু-পাখির প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণী দেশের সম্পদ।

তিনি বলেন, “আমাদের আশপাশে থাকা কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগলসহ সব প্রাণীর যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা আমাদের মানবিক করে তোলে।”

এ সময় উপস্থিত শিশু-কিশোররা সমস্বরে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দেয়।

এক লাখ ৭০ হাজার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণ: নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব ক্ষুদে খেলোয়াড়কে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সন্তানদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আঞ্চলিক পর্বে সারাদেশ থেকে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ আটটি ক্রীড়া বিষয়ে অংশ নেয়। পরে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলো রাজধানীর বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়।
সানা/আপ্র/২৭/৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গুতে আরো ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গুতে আরো ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই...

দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর অনুশীলন চলাকালে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে...

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং

ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে গত এক মাস ধরে কয়লা সংকটের কারণে...

খালে ভাসছিল লাশ, ৩৬ ঘণ্টায় হত্যার রহস্য উন্মোচন
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খালে ভাসছিল লাশ, ৩৬ ঘণ্টায় হত্যার রহস্য উন্মোচন

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনীতে জিরানী খালের পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের প...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 20 ঘন্টা আগে